• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

‘মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ’ বাতিল, ফিরছে পুরনো আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৫ পি.এম.
জাতীয় সংসদে মানবাধিকার কমিশন সংশ্লিষ্ট বিল পাসের সময় বিরোধী সদস্যদের তীব্র আপত্তি ও আলোচনা:ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল চলতি বছরের জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল করার লক্ষ্যে তিনি সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন এবং তা সেই প্রস্তাব অনুযায়ীই পাস হয়।

বৃহস্পতিবার  (৯ জুলাই) সকালে আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

তিনি জানান, মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পূর্ববর্তী আইন পুনঃপ্রচলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলটি উত্থাপনের আগে কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) আপত্তি জানান। তবে তার সেই আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিলটি পাসের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলন হবে। বিষয়টি ঘিরে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা দেখা যায়।

বিলের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকারি দলের সদস্যরা অতীতে থাকলে এ ধরনের বিলের বিরোধিতা করতেন। তার আশঙ্কা, নতুন করে পুরোনো আইন চালু হলে মানবাধিকার কমিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে।

তিনি বলেন, “আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হচ্ছি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে হয়তো আইন পাস করা সম্ভব, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।” তার মতে, ২০০৯ সালের আইন কার্যকর থাকার সময় মানবাধিকার কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেনি।

হাসনাত দাবি করেন, অতীতে এই কমিশনকে বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিশন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কিত অবস্থান নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “মানবাধিকার কমিশনের কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রভাব বেশি ছিল। ফলে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।” তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছয় সদস্যের বোর্ডে অধিকাংশই সরকারপন্থী হওয়ায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছিল।

সংসদ সদস্যটি আরও অভিযোগ করেন, কমিশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ছিল না এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলেও পূর্বানুমতির প্রয়োজন হতো। এতে প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলে স্পিকার তার মাইক বন্ধ করে দেন। পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানান। স্পিকার পরে হাসনাতকে অতিরিক্ত সময় প্রদান করেন।

অতিরিক্ত সময় পেয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিল আনার সময় নির্বাচন সঠিক হয়নি। তার মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন হলে একই সংসদ সদস্যরা ভিন্ন অবস্থান নিতেন।

তিনি বলেন, “সময়, পরিস্থিতি এবং অবস্থান বদলেছে। কিন্তু নীতিগত অবস্থান কি বদলানো উচিত?” তিনি এটিকে একটি নৈতিক প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হবে।

বিরোধীদলীয় সদস্য আরও উল্লেখ করেন, এই আইন কেবল মানবাধিকার কমিশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দায়মুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সঙ্গেও সম্পর্কিত। তার মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অধ্যাদেশের কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ
পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ
ঢাকায় পরীক্ষামূলক ‘ফুয়েল পাস’ চালু
ঢাকায় পরীক্ষামূলক ‘ফুয়েল পাস’ চালু
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ