সকালের নাস্তা দেরিতে করছেন? বাড়তে পারে হজমের সমস্যা

দ্রুত জীবনযাত্রা, ব্যস্ততা কিংবা ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই সকালের নাস্তা এড়িয়ে যান। আবার কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের অংশ হিসেবে দিনের প্রথম খাবারটি বাদ দেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হজমতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং গ্যাস, অম্বলসহ নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
নাস্তা না করলে কেন অ্যাসিডিটি বাড়ে
মানবদেহ একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাদিয়ান রিদম অনুযায়ী কাজ করে। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভোরের দিকেই পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ শুরু হয়, যা খাবার হজমে সাহায্য করার জন্য তৈরি হয়।
কিন্তু সকালে দীর্ঘ সময় খাবার গ্রহণ না করলে এই অ্যাসিড খালি পেটে জমতে থাকে। খাবার না থাকায় এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার না হয়ে ধীরে ধীরে পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ দেয়ালে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বুকজ্বালা, পেটে জ্বালাপোড়া, ঢেকুর, বমি বমি ভাব এবং মুখে টক স্বাদের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজে (GERD) ভুগছেন, তাদের মধ্যে নাস্তা বাদ দেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এতে অ্যাসিড রিফ্লাক্স আরও তীব্র হয়ে দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি তৈরি করে।
ঘুম থেকে উঠে কখন খাওয়া উচিত
ঘুম থেকে উঠেই ভারী খাবার খাওয়া অনেকের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে, কারণ তখন হজমতন্ত্র পুরোপুরি সক্রিয় থাকে না।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে এক গ্লাস পানি পান করা উচিত। এতে শরীর হাইড্রেটেড হয় এবং হজম প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়। এরপর ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে নাস্তা করা সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে ধরা হয়।
এই সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ করলে রাতভর তৈরি হওয়া অতিরিক্ত অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং গ্যাস বা অম্বলের ঝুঁকি কমে যায়। পাশাপাশি শরীর দিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও পায়।
সকালের নাস্তায় কী খাওয়া ভালো
নাস্তার খাদ্যাভ্যাস অ্যাসিডিটির ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই এমন খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা সহজে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়।
ওটস, আটার রুটি, ডিম, কলা এবং হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সকালের জন্য উপযোগী। এসব খাবার ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং পাকস্থলীর ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে না। একই সঙ্গে অ্যাসিডের প্রভাব কমাতেও সাহায্য করে।
অন্যদিকে, খালি পেটে বেশি তেল-মসলা বা ঝালযুক্ত খাবার খেলে সমস্যা বাড়তে পারে। সাইট্রাস জাতীয় ফলের রস, যেমন লেবু বা কমলার জুস, খালি পেটে গ্রহণ করলে অ্যাসিডিটি বেড়ে যেতে পারে। একইভাবে কার্বোনেটেড পানীয়ও পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, তাই এগুলো এড়িয়ে চলা ভালো।
নাস্তা এড়িয়ে যাওয়া সাময়িকভাবে সহজ মনে হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়মিত সকালের খাবার গ্রহণ না করলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড জমে গিয়ে নানা ধরনের শারীরিক অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে আরও জটিল আকার নিতে পারে।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য
ভিওডি বাংলা/এমএস







