• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে খালি হলো আইসিইউ

রাজশাহী প্রতিনিধি    ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ পি.এম.
হামে আক্রান্ত এক শিশু। ছবি: সংগৃহীত

লাশ নিয়ে মা-বাবা যখন বাড়ির পথে তখন রাজশাহী মেডিকেলের পিআইসিইউ থেকে নেহার মা চামেলীর মোবাইল নম্বরে কল আসে। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, পিআইসিইউ ফাঁকা হয়েছে। শিশুটি পিআইসিইউতে নিয়ে আসেন।’এই কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিশুর মা। তার কাছ থেকে ফোন নিয়ে শিশুটির বাবা হাসপাতালের লোকজনকে জানান, পিআইসিইউতে বেড না পেয়ে দুপুরেই তাদের নেহা মারা গেছে।

নেহার খালা মতিয়া খাতুন বলেন, ‘সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। সময়মতো পিআইসিইউতে একটা বেড পেলে হয়তো বেঁচে যেতো নেহা।’

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ৫০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন। প্রচণ্ড ভিড় থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের সাধারণ ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আর আইসিইউ সংকটে বাড়ছে মৃত্যু।

যদিও হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামের রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ডেডিকেটেড কর্নারে চিকিৎসা চলছে। শিশুদের জন্য আইসিইউ শয্যা সংখ্যা খুবই সীমিত। যা অপর্যাপ্ত।

কুষ্টিয়ার বাসিন্দা মো. রিফাতের পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) অপেক্ষমাণ তালিকায় তার সিরিয়াল ছিল ৩২। পরে শিশুটি মারা যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিফাত বলেন, ‘আইসিইউতে একটি শয্যার জন্য বহু চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা করা যায়নি। আমার মেয়েটিকে শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারলাম না।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের মাহবুর রহমান ও আতিকা খাতুন দম্পতি বিয়ের চার বছর পর প্রথম সন্তানের মুখ দেখেছিলেন। কিন্তু সেই সন্তানকে তারা বাঁচাতে পারলেন না। ছয় মাস বয়সেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে সংক্রামক রোগ হামের উপসর্গ নিয়ে। মাহবুর রহমান একজন মানসিক রোগী। নিয়মিত চিকিৎসা হলে একটু ভালো থাকেন। ছেলের মৃত্যুতে এখন আতিকা খাতুন পাগলপ্রায়।

মাহবুর রহমানের বোন শারমিন খাতুন বলেন, ‘চেষ্টার কোনও কমতি ছিল না। গরিব মানুষ হয়েও গত কয়েকদিনে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। মাহবুর মানসিক রোগী বলে অনেকে সাহায্য করেছেন। কিছু ধারদেনাও হয়েছে। বাচ্চাটা বেঁচে থাকলে আমাদের কোনও দুঃখ থাকতো না।’

তাদের মতো অনেক রোগীর স্বজনদের বক্তব্যে আইসিইউ সংকটের করুণ চিত্র উঠে এসেছে। একইসঙ্গে প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। যা সামাল দিতে পারছেন না হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

জন্মের পর থেকেই ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছিল পাবনার বেড়া উপজেলার ইয়াকুব আলীর মেয়ে নেহা। বয়স দুই মাস। গত রোজার ঈদের দিন তার শরীরে হাম দেখা দেয়। তারপর ২৩ মার্চ রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশু বিভাগের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছিল। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের পিআইসিইউতে (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনরা দ্রুত পিআইসিইউতে গিয়ে সিরিয়াল দেন। সিরিয়াল পড়ে ১২। পিআইসিইউর জন্য অপেক্ষাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার (০৮ এপ্রিল) দুপুরে মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নেহাসহ চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া অন্য শিশুরা হলো- কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সুইট রানার ছেলে সামিউল (ছয় মাস), কুষ্টিয়া সদরের সাধন শেখের ছেলে সাইফান (নয় মাস) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের রাফিউল্লাহর মেয়ে তাসফিয়া (এক মাস)। তারা তিন জনই হাসপতালের পিআইসিইউতে ভর্তি ছিল।

ভিওডি বাংলা/আরআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কালিয়ায় অবৈধভাবে মজুদ ৪শ’ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ
কালিয়ায় অবৈধভাবে মজুদ ৪শ’ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ
ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবাকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ
ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবাকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ
বিজিবির অভিযানে সীমান্তে ৯ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
বিজিবির অভিযানে সীমান্তে ৯ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ