ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানে চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আগে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে—কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি তেহরান ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বলে জানা গেছে।
একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি সূত্রের বরাতে বলা হয়, এই অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত সরাসরি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান আলোচনায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ঠিক কত অর্থ মুক্ত করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্য একটি ইরানি সূত্র দাবি করেছে, প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা কাতারের ব্যাংকগুলোতে আটকে ছিল।
এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রথম এই অর্থ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সামনে আসে। তবে একই বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের মিত্রদের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন আবারও অর্থ জব্দ করে।
সে সময় মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে পুরো অর্থ স্থায়ীভাবে আটকে রাখার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে। এই অর্থের উৎস ছিল দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির আয়, যা ২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকগুলোতে আটকে যায়। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে বিশ্বশক্তিগুলোর পারমাণবিক চুক্তিও বাতিল করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে ইরান মুক্তি দেয় এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিও মুক্তি পান। একই সঙ্গে জব্দকৃত অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। তবে তখন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক খাতে ব্যবহার করা যাবে—খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনার জন্য অনুমোদিত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে এবং পুরো প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থ ছাড়ে সম্মতি দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।
সূত্র: আল-জাজিরা
ভিওডি বাংলা/এমএস







