মনোনয়ন ফরম নিতে এসে তোপের মুখে কনকচাঁপা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসে দলীয় নেত্রীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
সকাল থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড় ছিল দলীয় কার্যালয়ে। এর মধ্যেই কনকচাঁপা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গেলে উপস্থিত ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নারী নেত্রীদের একাংশ তার প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকেও হঠাৎ করে মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়া সুবিধাবাদিতার শামিল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা বিএনপির কে? সে কি দল করেছে? যারা আন্দোলনে ছিল, ১৭ বছর আমরা দলের জন্য খেটেছি—তাদের মূল্যায়ন কোথায়?
তিনি আরও বলেন, বগুড়ার রাজপথে, ঢাকার রাজপথে ছিলাম। ১৭ বার জেলে গেছি। মহিলাদের মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা খেয়েছি। কনকচাঁপা এতদিন কোথায় ছিল? আমাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন? আমরা সুবিধাবাদীদের দেখতে চাই না।
রনি প্রশ্ন তোলেন, কনকচাঁপা কয়টা মামলা খেয়েছে? কয়টা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছে? যারা রাজপথে লড়াই করেছে, আমরা তাদেরই মনোনয়ন চাই।
এ সময় উপস্থিত আরও কয়েকজন নেত্রীও একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, দলে দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রীদের উপেক্ষা করে হঠাৎ করে আগত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলীয় কাঠামো ও কর্মীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে এসব প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শেষ পর্যন্ত কনকচাঁপা তার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দলীয় কার্যালয়ে এ ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—মনোনয়নের ক্ষেত্রে কি ত্যাগ-সংগ্রামই প্রধান বিবেচ্য, নাকি নতুন মুখের আগমনকে স্বাগত জানাবে দল—এ নিয়েই এখন জোর বিতর্ক চলছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







