যুদ্ধ বন্ধের পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা চলছে। শনিবার শেষ বিকেলে শুরু হয়ে হোটেল সেরেনায় প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলা এ বৈঠকে যুদ্ধবিরতির মতো আশার আলো দেখা যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যম। এই বৈঠক ঘিরে সবার চোখ এখন ইসলামাবাদে। এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে আলোচনা শুরুর আগে কিছু মতবিরোধও দেখা দেয়। ইরান জানায়, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না। পাশাপাশি বিদেশে জব্দ থাকা প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তির বিষয়টিও তারা শর্ত হিসেবে তুলে ধরে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের দাবি জানাতে পারে। বিপরীতে ইরান পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক অধিকার স্বীকৃতি এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিশ্চয়তা চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এত জটিল ইস্যুর কারণে প্রাথমিক বৈঠক থেকেই বড় ধরনের অগ্রগতি আশা করা কঠিন। তবে এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি করতে পারে এবং উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ আরও উচ্চপর্যায়ের নেতারা।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়ক কারিগরি কমিটিগুলো ইতোমধ্যে বৈঠক করছে এবং আলোচনায় বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত হয়েছেন।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতে দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িক বিরতি চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতটি ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।
বৈঠকের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
ভিওডি বাংলা/আরআর/আরকেএইচ/এমএস







