কয়েক ধাপে সহজেই ঝলমলে বৈশাখী সাজ

বাংলা নববর্ষ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ আনন্দঘন দিন। পহেলা বৈশাখ মানেই নতুন পোশাক, উৎসবের আমেজ আর নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের আকাঙ্ক্ষা। এ দিনে সাজগোজেও থাকে আলাদা মাত্রা। তবে ভারী বা অতিরিক্ত সাজ নয়-সতেজ, স্বাভাবিক ও আরামদায়ক লুকই বৈশাখের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করলেই অনায়াসে পাওয়া যেতে পারে আকর্ষণীয় বৈশাখী সাজ।

প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে ত্বকের যত্নে। বৈশাখের সকালে সাধারণত তাড়াতাড়ি বের হতে হয়, তাই ঘুম থেকে উঠেই ত্বককে সতেজ রাখা জরুরি। পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধোয়ার পর বরফ দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করলে ত্বক টানটান ও ফ্রেশ দেখায়। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা হালকা ধরনের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে শুষ্ক ত্বকের জন্য প্রয়োজন ভালো মানের আর্দ্রতাদায়ক ক্রিম, যা ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখে। রোদ থেকে সুরক্ষার জন্য বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
মেকআপের ক্ষেত্রে বৈশাখে হালকা সাজই সবচেয়ে মানানসই। ভারী ফাউন্ডেশন বা অতিরিক্ত কসমেটিকস ব্যবহার না করে সামান্য ফাউন্ডেশন বা পাউডার ব্যবহারেই মুখে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা আনা সম্ভব। সাজ দীর্ঘ সময় ধরে ঠিক রাখতে প্রাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের মধ্যে প্রয়োজন হলে টাচআপ করার জন্য সঙ্গে একটি কমপ্যাক্ট পাউডার রাখা সুবিধাজনক। এছাড়া হালকা হাইলাইটার ব্যবহার করলে মুখে ঝলমলে আভা যোগ হয়।

চোখের সাজে রাখা উচিত প্রাকৃতিক ছোঁয়া। গরমের দিনে খুব গাঢ় বা ভারী আই মেকআপ এড়িয়ে চলাই ভালো। হালকা বাদামি, পিচ বা সবুজাভ আইশ্যাডো ব্যবহার করলে চোখে কোমল ও স্বাভাবিক লুক আসে। ভ্রু পরিপাটি করে সাজিয়ে সামান্য কাজল ও আইলাইনার ব্যবহার করলে চোখের সৌন্দর্য আরও ফুটে ওঠে।
ঠোঁটের সাজে বৈচিত্র্য আনা যায় রঙের মাধ্যমে। বৈশাখ মানেই লাল-এই ধারণা এখনো জনপ্রিয়। লাল লিপস্টিক যেমন ঐতিহ্যবাহী লুক দেয়, তেমনি গোলাপি, কমলা বা হালকা বাদামি রঙও ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি চোখের সাজ একটু গাঢ় হয়, তাহলে ঠোঁটে হালকা রঙ ব্যবহার করলে ভারসাম্য বজায় থাকে।
চুলের সাজেও থাকা উচিত আরাম ও সৌন্দর্যের সমন্বয়। গরমের দিনে খোলা চুল কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে, তাই হালকা করে বাঁধা চুল বেশি সুবিধাজনক। সাধারণ বেণি, ফ্রেঞ্চ বেণি বা খোঁপা-সবই বৈশাখী সাজের সঙ্গে মানানসই। বিশেষ করে সিঁথি করে গোছানো খোঁপা পুরো লুকে একটি ঐতিহ্যবাহী আবহ যোগ করে।

বৈশাখী সাজের অন্যতম আকর্ষণ হলো ফুলের ব্যবহার। চুলে তাজা ফুল গুঁজে দিলে পুরো সাজে প্রাণবন্ততা চলে আসে। গাঁদা, জুঁই কিংবা রজনীগন্ধা-যে কোনো ফুলই সাজকে করে তোলে আরও উজ্জ্বল ও উৎসবমুখর।
সবকিছু মিলিয়ে পহেলা বৈশাখের সাজ হওয়া উচিত স্বাভাবিক, আরামদায়ক ও প্রাণবন্ত। অতিরিক্ত কিছু না করে সহজ ও রঙিন সাজেই ফুটে ওঠে এই উৎসবের আসল সৌন্দর্য।
ভিওডি বাংলা/জা







