• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী ব্যুরো    ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৫ পি.এম.
চারুকলা অনুষদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তৈরি করছেন নানা বর্ণিল মোটিফ-ছবি-ভিওডি বাংলা

বর্ষবরণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ‘বৈশাখী শোভাযাত্রাকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটির চারুকলা অনুষদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তৈরি করছেন নানা বর্ণিল মোটিফ, যেখানে বাঙালির ঐতিহ্যের পাশাপাশি উঠে আসছে সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

এবারের শোভাযাত্রায় যুদ্ধ ও জ্বালানিসংকটের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। চারুকলা অনুষদের শিক্ষক এ কে এম আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা এমন একটি সময়কে ইঙ্গিত করছি, যখন মানুষ আবার পুরনো বাহনের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হতে পারে।

ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি সেই বাস্তবতারই প্রতীক।’
শোভাযাত্রার প্রধান মোটিফ হিসেবে থাকছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি, যা শক্তি, গতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্থান পাচ্ছে জাতীয় মাছ ইলিশ, শৈশবের স্মৃতিবাহী টমটম গাড়ি এবং প্রাচীন রাজা-বাদশা ও ঐতিহাসিক চরিত্রের মুখোশ। বিশ্ব পরিস্থিতির প্রতিফলন তুলে ধরতে একটি বিশেষ ইনস্টলেশন আর্ট প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন একাডেমিক ভবনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বাঁশ, লোহা ও কাগজ দিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন বিভিন্ন মোটিফ। রংতুলির ছোঁয়ায় সেগুলো ধীরে ধীরে প্রাণ পাচ্ছে।

মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির বলেন, গত বছর রমজানের কারণে বড় পরিসরে আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এবার আমরা নতুন উদ্যমে কাজ করছি।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুখোশ তৈরি করছি এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক নতুন বিষয় শেখার সুযোগ পাচ্ছি।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, নিজেদের হাতে সব কিছু তৈরি করার মধ্যে আলাদা আনন্দ রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি শোভাযাত্রাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে।

অর্থায়নের বিষয়ে চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শ্রম ও অর্থায়নেই এই প্রস্তুতি চলছে। সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর নেওয়া হয়নি।

এবার কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত প্রতিপাদ্য না থাকায় এবং বিতর্ক এড়াতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সময় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলা নববর্ষের আয়োজন ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। রাজশাহী ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শোভাযাত্রা উপভোগ করতে আসবেন বলে আশা আয়োজকদের। শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হবে।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সর্বজনীন উৎসব গ্রামাঞ্চলে আরো বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে সামাজিক সম্প্রীতি বাড়বে, যা মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভিওডি বাংলা/মো. রমজান আলী/জা


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শাজাহানপুরে চলন্ত বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা
শাজাহানপুরে চলন্ত বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা
সাইলেন্ট হ্যান্ডসের উদ্যোগে নতুন ঘর পেলেন প্রতিবন্ধী জমেলা
সাইলেন্ট হ্যান্ডসের উদ্যোগে নতুন ঘর পেলেন প্রতিবন্ধী জমেলা
সাঙ্গু নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্যদিয়ে শুরু বিজু-বিষু উৎসব
সাঙ্গু নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্যদিয়ে শুরু বিজু-বিষু উৎসব