৮ বছর পর মাঠে ফিরছে আফগান নারী ফুটবলাররা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে আফগানিস্তান নারী ফুটবল দল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়া দলটি অবশেষে নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মাঠে ফেরার অনুমতি পেয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আফগান নারী ফুটবলারদের জন্য শুধু ক্রীড়াঙ্গনে প্রত্যাবর্তন নয়, বরং অধিকার ও পরিচয়ের লড়াইয়ে বড় সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে নারীদের খেলাধুলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর ফলে নারী ফুটবলারদের ক্যারিয়ার হঠাৎ করেই থেমে যায়। অনেক খেলোয়াড় নিরাপত্তার কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। নিজেদের ভবিষ্যৎ, পরিচয় এবং খেলোয়াড়ি জীবন রক্ষায় তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সমর্থনের অপেক্ষায় ছিলেন।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা সম্প্রতি বিশেষ বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে জাতীয় ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়াই দল নিবন্ধনের নতুন নীতি অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন আফগান নারী দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।
দলটির সাবেক অধিনায়ক খালিদা পোপাল বলেছেন, এই প্রত্যাবর্তন আফগান নারীদের দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি। তাঁর মতে, এই সুযোগ প্রবাসে থাকা বহু প্রতিভাবান নারী খেলোয়াড়কে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর নতুন মঞ্চ তৈরি করে দেবে।
বিদেশে আশ্রয় নেওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত বিশেষ দল ইতোমধ্যে সংগঠিত হয়েছে এবং তারা আগামী ২০২৮ অলিম্পিক বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। যদিও ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তবুও এই প্রত্যাবর্তন ভবিষ্যতের জন্য বড় পদক্ষেপ।
আফগান নারী ফুটবল দলের মাঠে ফেরা কেবল ক্রীড়া সংবাদ নয়, এটি নারীদের অধিকার, আত্মপরিচয় এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তিরও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকছে।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







