• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মে দিবসে আলোচনায় ‘অফলাইন হওয়ার অধিকার’

মেহেদী সম্রাট    ১ মে ২০২৬, ০১:৫১ এ.এম.
ছবি : সংগৃহীত

১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিকদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল ছিল ‘আট ঘণ্টা কর্মদিবস’। তবে দেড়শ বছর পর ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে সেই আট ঘণ্টার সীমাবদ্ধতা এখন কেবলই কাগজে-কলমে। স্মার্টফোন এবং উচ্চগতির ইন্টারনেটের কল্যাণে অফিস এখন আর নির্দিষ্ট চার দেয়ালের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই। ফলে কাজ শেষে বাড়ি ফিরলেও ডিজিটাল মাধ্যমে কর্মীর ওপর কাজের চাপ অব্যাহত থাকছে। এবারের মে দিবসে তাই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ বা অফিস সময়ের পর ডিজিটাল যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অধিকার।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকর্তা আরমান হোসেন নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, অফিস শেষ করে বাসায় ফেরার পরও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নোটিফিকেশন আসা থামে না। রাত ১০টা বা ১১টায় ক্লায়েন্টের মেইল বা বসের মেসেজের উত্তর দিতে হয়। শারীরিকভাবে বাসায় থাকলেও মানসিকভাবে আমি সবসময় অফিসের সাথেই যুক্ত থাকি। মনে হয় ডিউটি যেন কখনোই শেষ হয় না।

আরমানের মতো এই চিত্র এখন দেশের অধিকাংশ পেশাজীবীর। ডিজিটাল মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যুক্ত থাকার এই বাধ্যবাধকতা তৈরি করছে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ, যাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ডিজিটাল বার্নআউট’।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আহমেদ বলেন, মানুষের মস্তিষ্কের বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা মুছে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং পারিবারিক কলহ বাড়ছে। কর্মীকে যদি অফিস সময়ের পরেও কাজের চিন্তায় থাকতে হয়, তবে মে দিবসের মূল চেতনা ‘বিশ্রামের অধিকার’ এখানে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এই সংকটের আইনি সমাধান খুঁজতে শুরু করেছে। ২০১৭ সালে ফ্রান্স প্রথম ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ আইন কার্যকর করে। এরপর ইতালি, স্পেন এবং পর্তুগালের মতো দেশগুলোও একই পথে হেঁটেছে। এসব দেশে অফিস সময়ের পর কর্মীকে ইমেইল বা মেসেজ পাঠানো আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। তবে বাংলাদেশে শ্রম আইনে এই ডিজিটাল শোষণের বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত।

শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট তানজিম আল ইসলাম মনে করেন, সময়ের সাথে সাথে আইনের সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের শ্রম আইনে কর্মঘণ্টা নির্ধারিত থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যমে কাজের কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একজন কর্মীকে চব্বিশ ঘণ্টা অ্যাভেইলেবল রাখা এক ধরণের আধুনিক দাসত্ব। মে দিবসের এই সময়ে আমাদের নীতি-নির্ধারকদের উচিত ডিজিটাল মাধ্যমে অতিরিক্ত শ্রমের বিষয়টি আইনি কাঠামোর আওতায় আনা।

শ্রমিক অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মে দিবস কেবল কল-কারখানার শ্রমিকদের জন্য নয়, শোষণের শিকার প্রতিটি কর্মজীবীর জন্য। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কর্মীর নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রামের কোনো বিকল্প নেই। ডিজিটাল এই শৃঙ্খল থেকে মুক্তি নিশ্চিত করাই হোক এবারের মে দিবসের অন্যতম অঙ্গীকার।

ভিওডি/সম্রাট/এসআর


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করল বিমান
বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করল বিমান
শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হলেই মানবিক বাংলাদেশ সম্ভব
মে দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হলেই মানবিক বাংলাদেশ সম্ভব
অতিরিক্ত সচিবদের ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ বাধ্যতামূলক
অতিরিক্ত সচিবদের ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ বাধ্যতামূলক