রাজধানীতে হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি, দুর্ভোগে অফিসফেরত মানুষ

রাজধানীতে আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে একদিকে যেমন তীব্র গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলেছে, অন্যদিকে অফিস শেষে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্বল্প সময়ের মধ্যেই আবহাওয়ার পরিবর্তনে শহরের জনজীবনে তৈরি হয় অচলাবস্থার মতো পরিস্থিতি।
বুধবার (১৩ মে) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার আকাশ হঠাৎ করেই ঘন মেঘে ঢেকে যায়। উত্তর দিক থেকে কালো মেঘের সঞ্চার দ্রুত পুরো শহরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। একই সময়ে হালকা বাতাস বইতে শুরু করে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ঝড়ো আবহাওয়ার রূপ নেয়। এরপর সোয়া ৪টার দিকে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, যা কিছু সময়ের মধ্যে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিতে পরিণত হয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে চলতে থাকে।

এই সময়টিতেই মূলত অফিস ছুটির ব্যস্ততা শুরু হয়। বিকাল ৪টার দিকে সরকারি ও বেসরকারি অধিকাংশ অফিসের কার্যক্রম শেষ হওয়ায় সড়কে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ বেরিয়ে পড়ে। ফলে বৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যা রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানজটকে আরও তীব্র করে তোলে।
বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে যায়। অনেক সড়কে পানি জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। গণপরিবহন সংকট এ সময় সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন বাসস্টপেজে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেক বাস থামলেও যাত্রী তুলতে দেরি করে, ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে।
রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের একটি অংশ বৃষ্টির মধ্যেই যাত্রী পরিবহন চালিয়ে যান, তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও ওঠে। এতে সাধারণ যাত্রীরা আরও বেশি চাপের মধ্যে পড়েন। অফিসফেরত মানুষদের অনেককেই ভিজে কিংবা যানজটে আটকে দীর্ঘ সময় রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়।
শিক্ষার্থীরাও এই আকস্মিক বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন। অনেকেই ছাতা ছাড়া বের হওয়ায় ভিজে যান, আবার কেউ কেউ যানজটে আটকে পড়ে সময়মতো বাসায় ফিরতে পারেননি। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়, বিশেষ করে ছোট শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে।
তবে এই বৃষ্টির ইতিবাচক দিকও ছিল। কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসায় অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে যে অসহনীয় গরম ছিল, তা হঠাৎ কমে যাওয়ায় জনজীবনে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের হঠাৎ বৃষ্টি আগামী দিনগুলোতেও দেখা যেতে পারে। ফলে রাজধানীতে বিকেলভিত্তিক বৃষ্টি এবং তার ফলে সৃষ্ট যানজট ও জনভোগান্তি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







