• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

কোরবানি

চাহিদার অতিরিক্ত পশু, দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

বরগুনা প্রতিনিধি    ১৬ মে ২০২৬, ০৯:৫১ পি.এম.
ছবি : ভিওডি বাংলা
ছবি : ভিওডি বাংলা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বরগুনার পাথরঘাটায় কোরবানির পশু লালন পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। তবে ঈদকে ঘিরে এই ব্যস্ততার মাঝেও খামারিদের চোখে-মুখে স্পষ্ট উদ্বেগ। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু প্রস্তুত থাকায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদুল আজহায় পাথরঘাটায় কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৫টি। এর বিপরীতে উপজেলাজুড়ে প্রস্তুত রয়েছে ৯ হাজার ৯৭৯টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৬ হাজার ১৬টি এবং ছাগল ও ভেড়া ৩ হাজার ৯৬৩টি। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ১ হাজার ৪৮৪টি পশু। যদিও গত বছরের তুলনায় এবার পশু প্রস্তুতের সংখ্যা কমেছে ৮২টি।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছরে পশুখাদ্য, ভুসি, খৈল, খড়, ওষুধ ও শ্রমিকের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে একটি গরু প্রস্তুত করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় হচ্ছে। অনেক খামারি ব্যাংক ঋণ বা এনজিও থেকে টাকা নিয়ে খামার পরিচালনা করছেন। তাই ঈদের বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের আমার স্বপ্ন গবাদি পশু খামারের মালিক স্বর্ণা বলেন, আমার খামারে বর্তমানে ৩৫টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি গরুর পেছনে অনেক খরচ হয়েছে। গরুর খাবারের দাম কয়েক মাস ধরে বেড়েই চলেছে। এখন বাজারে যদি ভালো দাম না পাই, তাহলে লাভ তো দূরের কথা, খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন,আমরা দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করি। কোনো ক্ষতিকর ইনজেকশন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করি না। কিন্তু বাজারে অতিরিক্ত পশু এলে ক্রেতারা কম দামে কিনতে চান। এতে ছোট খামারিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

একই শঙ্কা প্রকাশ করেন আরেক খামারি বদিউজ্জামান সাহেদ। তিনি বলেন,আমাদের ফার্মে ৫০ থেকে ৬০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে যদি ভারতীয় বা চোরাই পথে আসা পশু প্রবেশ করে, তাহলে দেশীয় খামারিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

খামারিরা জানান, কয়েক বছর আগেও ঈদে ভারতীয় গরু সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করত। এতে স্থানীয় বাজারে পশুর দাম কমে যেত। যদিও সরকার এখন সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে, তবু চোরাই পথে পশু প্রবেশের শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগে বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা খামারে খামারে ঘুরে পশু দেখছেন। তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত দামে বেচাকেনা শুরু হয়নি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত খামার তদারকি করছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দু দাস বলেন,এ বছর উপজেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। খামারিরা এখন অনেক সচেতনভাবে পশু পালন করছেন। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা স্টেরয়েড ব্যবহার বন্ধে আমাদের নজরদারি রয়েছে। এছাড়া খামারিদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এবারের কোরবানির বাজারে খামারিরা তাদের পশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন।

বাংলাদেশ এগ্রো অ্যাসোসিয়েশন বরগুনা শাখার সদস্য লিয়াকত ফরাজী বলছেন, দেশে কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পেছনে গ্রামীণ খামারিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের স্বার্থ রক্ষা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং, চোরাই পশু প্রবেশ বন্ধ এবং খামারিদের সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা ধীরে ধীরে এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

ভিওডি বাংলা/জাহিদুল ইসলাম মেহেদী/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
এমসি কলেজ ছাত্রবাসে গণধষর্ণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ওয়াসার নতুন চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান
শিরোইল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বাস। ছবি: ভিওডি বাংলা
রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ