৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে মানববন্ধন

মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক মানববন্ধনে নোবিপ্রবি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করে। এসময় তারা ধর্ষণের বিচার ও ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা "উই ওয়ান্ট জাস্টিস", "আছিয়া থেকে রামিছা-কোর্ট কাছারি সব মিছা", " ধর্ষকদের ফাঁসি চাই", এমন বিভিন্ন স্লোগানে প্রতিবাদ জানায়।
মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা আপনাদের সাথে যত রকমের যৌক্তিক দাবি আছে তাতে সবসময় আছি এবং আমরা ইনশাআল্লাহ সামনেও থাকবো। ক্যাম্পাসের যত যৌক্তিক দাবি আছে, আন্দোলনের আছে আমরা সে সবগুলোর সাথে সবসময় একাত্মতা পোষণ করবো। এবং আমরা আপনাদের সাথে থেকে এটার বিচার দাবি করছি। গত রাতে খাদিজা হলে হয়েছে আমরা সেটা প্রোভিসি স্যারকে বলেছি, যারাই এই ঠিকাদারের কাজ করেছে ওই হলের, তাদের জন্য যেন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ সময় নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক বলেন, আমরা এই যৌক্তিক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রথমত বলতে চাই এই যে শিশু ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন যে হারে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে, তাদের কোনো বিচার হয়নি। এখন পর্যন্ত যতগুলো ধর্ষণ হয়েছে, সেগুলোর ফাঁসির আদেশ হয়েছে বা রায় হয়েছে, কিন্তু কোনো ফাঁসি এখন পর্যন্ত যতটুকু জানি কার্যকর হয় নাই। তো আমরা এটার অনতিবিলম্বে ২ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শব্দ কুটির-এর সভাপতি মুজতবা ফয়সাল বলেন, আমরা ধর্ষণ বিরোধী, আমরা হত্যা বিরোধী যে আইনগুলো রেখেছি, এই আইনের কার্যকরণ এত বেশি, এত বেশি ঢিলে হয়ে যায় বিচার করতে, বিচার পেতে যে এর মাঝেই ধর্ষণকারীরা কোনোভাবে মুক্তি পেয়ে যায়, জামিন পেয়ে যায়। আপনারা জানেন, এই রামিসাকে যে হত্যা করেছে, যে পশুটি, সেও কিছুদিন আগে অন্য একটি মামলা থেকে জেলখানা থেকে ছাড়া পেয়ে এসেছে। অর্থাৎ, আমরা কখনোই এই হত্যাকারীদের, এই অপরাধীদের সুষ্ঠু মানে বিচার নিশ্চিত করতে পারিনি, যে কারণে আমরা কোনোভাবেই অপরাধ দমন করতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের উপস্থিতিতে, আমাদের সামনে একটি উদাহরণ আছে। আমরা জানি ২০০০ সালের পর অ্যাসিড নিক্ষেপ একটি মহামারি আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সেই অ্যাসিড নিক্ষেপকে সরকার দমন করতে পেরেছিল তৎক্ষণাৎ। এই অ্যাসিড নিক্ষেপ যেভাবে দমন করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিকে একটি মডেল ধরে অতি দ্রুত এই শিশু ধর্ষণ এবং নারী ধর্ষণের যে মহামারি এখন চালু হয়েছে, এটিকে আমরা দমন করতে পারি। সরকার এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ভিওডি বাংলা/সামিয়া হোসেন মুনিয়া/জা







