গোমূত্র পান করাতে বাধ্য, সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার পুত্রবধূ গিরিজা রাউতের দাবি, দীর্ঘ সাত বছর ধরে তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি জোরপূর্বক গোমূত্র পান করানো এবং তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এ ঘটনায় সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে এবং স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামে কথিত দুই তান্ত্রিককেও আসামি করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে গত সাত বছর ধরে শ্বশুরবাড়িতে তিনি নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার ভাষ্য, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের কথা বলে বারবার তাকে তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও পরিবারের সদস্যরা তাকে জোর করে গোমূত্র পান করান। একই সঙ্গে কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে তার মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা রাউত বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। তার দাবি, পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং কুসংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।
গিরিজা আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর উটিতে হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলতেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাকে অপমান করা হতো এবং দূরে সরিয়ে রাখা হতো। এমনকি তার স্বামী বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হতো। পাশাপাশি নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। গিরিজার দাবি, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাকে বলা হয়েছিল, স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হলে তার স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু তার স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহনির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য