• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
মিনা-মুজদালিফায় বাড়ছে তাপমাত্রা, হজযাত্রীদের জন্য সতর্কবার্তা রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিশেষ পিপি নিয়োগ পুরনো ঘুণে ধরা বাংলাদেশ আর দেখতে চাই না: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ঈদযাত্রার প্রথম দিনে সড়কে ১৬ প্রাণহানি চার মাসে ধর্ষণসহ শিশু নির্যাতনের ৭৩ ঘটনায় মামলা হয়নি হামের রোগী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার-নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল পাকিস্তান কি পারবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে? চাঁন-তারা জামে মসজিদের জানাজার ঘর উদ্বোধন করলেন ডিএসসিসি প্রশাসক ২৫ মে থেকে পরবর্তী এক বছর ‘নজরুল বর্ষ’: প্রধানমন্ত্রী টাকা দিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর গলায় ফাঁস

রামিসার হত্যাকারীর ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’ এক মাসের মধ্যে: প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি    ২৩ মে ২০২৬, ০৬:৪১ পি.এম.
ছবি : সংগৃহীত

আগামী এক মাসের মধ্যে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আইন অনুযায়ী এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।’

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন মঞ্চে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধে চূড়ান্ত অবক্ষয়ের প্রমাণ মিলেছে। এ বিষয়ে একটি কথা আজকের এই অনুষ্ঠানে আমি পরিষ্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’

আগামী ১ মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যাতে করে ভবিষ্যতে আর কোনও ব্যক্তি এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘একটি নিরাপদ মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জীবন ঘটাতে হবে।’

আগামী ২৫ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালের পর থেকে জাতীয় কবির অমর স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী উদযাপন হয়নি। প্রায় দুই দশক পর পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী আয়োজন করতে পেরে সরকার গৌরববোধ করছে। এই অনুষ্ঠানে আমি আরো একজন মানুষকে গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করতে চাই...তিনি মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহ। ১৯১৪ সালে তিনি নজরুল ইসলামকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিজ বাড়িতে এনে আশ্রয় দিয়েছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যদি আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ কিংবা বরণ করতে না পারি এটি তাদের নয় জাতি হিসেবে আমাদেরই দীনতা প্রকাশ পায়। ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি র‍্যালিতে অংশ নিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এভাবে জাতীয় কবির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে। আমি মনে করি, এইসব কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে চলে যাওয়ার কারণেই বতর্মানে আমাদের সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় দৃশ্যমান।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন,পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্য নিয়ে বাক্সময় হয়েছে। বিপ্লব বিদ্রোহ কিংবা রণ-সঙ্গীত, ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান, অথবা ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামা সংগীত, প্রেম প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ, কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উম্মাদনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশ।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয়। বাংলা সাহিত্যের এক নতুন রুচির বিপ্লব। তিনিই কবিতায় এনেছেন যুদ্ধের গর্জন, কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় ও আত্মিক স্বাধীনতার বজ্রনিনাদ। তিনি ছিলেন নারী অধিকার, মেহনতি মানুষের কল্যাণ আর অসাম্প্রদায়িক বিশ্বমানবতার এক অনন্য ফেরিওয়ালা। এই মহাকবি বাংলাদেশের আবহমান কালের সংস্কৃতির চিরযৌবনের প্রতীক হয়ে আমাদের হৃদয়ে জাগরুক হয়ে আছেন। থাকবেন।’

ফ্যাসিবাদের সময়  মানবতা মানবিকতা এবং দেশে আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারেই বিনষ্ট করে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র দেশের মানুষের অধিকার আর দেশের অর্থ সম্পদই লুন্ঠন করেনি। বিচার বিভাগসহ দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। একটি নিরাপদ মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদেরকে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রেও কবি নজরুলের জীবন এবং কর্ম আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক। কবি নজরুলের জীবন এবং কর্ম বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে আরো বেশি ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন।  তাঁর জীবনবোধ তাঁর জীবন দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্ম পৌঁছে দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালকে 'নজরুল সিটি' হিসেবে ঘোষণা দেয়া যায় কিনা এ ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি আহবান জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। জাতীয় কবির জন্মদিনে আমরা অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বিভেদের গ্লানি মুছে!ফেলি। সবার আগে বাংলাদেশ'কে ধারণ করি। একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য নিজেদের নিবেদিত করার প্রত্যয়ে আমি কবি নজরুল জন্মজয়ন্তীর তিনদিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করছি।’

ভিওডি বাংলা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ধর্ষণ-নির্যাতনে ‘জিরো টলারেন্স’ চায় ১৫৬ সংগঠন
ধর্ষণ-নির্যাতনে ‘জিরো টলারেন্স’ চায় ১৫৬ সংগঠন
জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ও মানুষের স্বার্থে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো: প্রধানমন্ত্রী
দেশের ও মানুষের স্বার্থে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো: প্রধানমন্ত্রী