জনতার তোপের মুখে খাটের নিচে লুকালেন তৃণমূল নেতা

সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে গ্রামবাসীর কাছে টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাড়ি আর পাওয়া হয়নি। এতেই খেপেছেন ভুক্তভোগীরা। রীতিমতো প্রভাবশালী ওই নেতার বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
উত্তেজিত জনতার তোপ থেকে বাঁচতে ঘরের খাটের নিচে আশ্রয় নেন তিনি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নেতার নাম শহিদুল মিয়া। তিনি স্থানীয়ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত।
টাকা দিয়েও ঘর না পাওয়া ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে শহিদুল মিয়ার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ওই এলাকায় তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই মূলত দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর আবাসন প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এলাকার দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন শহিদুল। ঘরপ্রতি ২ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের ধারণা, সব মিলিয়ে গ্রামবাসীর কাছ থেকে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ও উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে নিজের শোবার ঘরের খাটের নিচে আশ্রয় নেন শহিদুল মিয়া। খবর পেয়ে মাথাভাঙা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
প্রথমে ঘরে ঢুকে তাকে খুঁজে না পাওয়া গেলেও, পরে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে তাকে টেনে বের করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই ঘটনাকে ‘দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষা’ বলে মন্তব্য করছেন।
ভিওডি বাংলা/জা







