বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, কমতে পারে দেশের বাজারেও

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ বড় দরপতন দেখা দিয়েছে। কমেছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৯৩ ডলারে নেমে আসে। এতে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের মোট দরপতন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
বুলিয়নের দামও গত ২৬ মার্চের পর এদিন সর্বনিম্ন পর্যায়েও নেমে যায়। অন্যদিকে, আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯০ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার আরও দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। এর প্রভাবেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় পতন দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ৬ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৩৪ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৩৯ দশমিক ৪০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৯৫ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববাজারে এ দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলে সাধারণত দেশের বাজারেও তার প্রতিফলন ঘটে। ফলে শিগগিরই স্বর্ণ ও রুপার দাম আরেক দফা কমানো হতে পারে।
এর আগে গত ২ জুন বাজুস স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। সে সময় প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা এবং রুপার দাম ১১৭ টাকা কমানো হয়েছিল।
বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৪১ টাকায়।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এমএস







