• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

প্রথমবার এমপি হয়েই চমক, আলোচনায় ইশরাকের ১০০ দিনের অর্জন ও পরিকল্পনা

আহসান হাবীব    ৯ জুন ২০২৬, ০৫:১০ পি.এম.
গ্রাফিক্স: ভিওডি বাংলা

দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম শেষে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে যেসব নতুন মুখ দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ঢাকা-৬ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার পরই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

একদিকে রাজধানীর নাগরিক সমস্যা সমাধান, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তরাধিকারকে রাষ্ট্রের মূল ধারায় যুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়ে ইশরাকের কাঁধে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনে তাঁর কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি একটি জাতীয় রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলারও চেষ্টা করছেন তিনি।

নাগরিক সমস্যাকে অগ্রাধিকার
দায়িত্ব গ্রহণের পর গ্যাস সংকট, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বাজার তদারকি এবং যানজট নিরসনকে অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি হিসেবে সামনে আনেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকাভিত্তিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি নগরজীবনের বাস্তব সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ায় একজন মাঠমুখী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাদক, ছিনতাই এবং কিশোর গ্যাং কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ঢাকা-৬ আসনের মাদক স্পট চিহ্নিতকরণ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে—নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণও জরুরি।

জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের নতুন ধারা
সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং বিভিন্ন নাগরিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ ইশরাক হোসেনকে তরুণদের কাছেও পরিচিত করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন অগ্রাধিকার
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইশরাক জোর দিয়ে বলে আসছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলীয় সম্পদ নয়; এটি সমগ্র জাতির অহংকার। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ইতিহাসকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে রাখার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তুলে ধরেছেন ইশরাক হোসেন।

গ্রাফিক্স: ভিওডি বাংলা

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষায় দৃশ্যমান উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইশরাক হোসেনের অন্যতম আলোচিত পদক্ষেপ হলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশের ভিত্তিতে ৬ হাজারেরও বেশি অমুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার আপসহীন থাকবে। একই সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠদের স্মৃতি সংরক্ষণ, স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা ও প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জুলাই যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের ভাবনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের অবদানকে জাতীয় ইতিহাসের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করেছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী নীতিগতভাবে যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন—

- জুলাই শহীদ ও আহতদের তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ।
- তাঁদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ।
- জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস শিক্ষার্থী ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
- স্মৃতিফলক, স্মারক ও গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা।
- রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে জুলাই যোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তরাধিকারকে একই ধারাবাহিকতায় উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ইতিহাসের একটি সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি।

ইশরাক হোসেনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বক্তব্য ও নীতিগত অবস্থান থেকে যেসব বিষয় সামনে এসেছে—

- বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করা।
- বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম জোরদার করা।
- নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসচর্চায় সম্পৃক্ত করতে শিক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ।
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় উপস্থিতি
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণও আলোচনায় এসেছে।

১০০ দিনের অর্জন
নিজেকে শুধু একটি নির্বাচনী এলাকার এমপি হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় পর্যায়ে সক্রিয় নীতিনির্ধারক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বড় অর্জন।

নাগরিক সমস্যা সমাধান, মাদকবিরোধী অবস্থান, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা, ইতিহাস সংরক্ষণ এবং জুলাই যোদ্ধাদের অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আলোচনায় নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

স্বাভাবিকভাবেই ১০০ দিন কোনো সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট সময় নয়। তবে এই সময়ে ইশরাক হোসেন যে কর্মতৎপরতা, জনসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, তা তাঁর প্রতি জনগণের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশার কতটা প্রতিফলন ঘটাতে পারেন তিনি।

ভিওডি বাংলা/‎এএইচ/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বারবার প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, কারণ খোঁজার নির্দেশ
একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন বারবার প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, কারণ খোঁজার নির্দেশ
উন্নত ও নিরাপদ পৃথিবী গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
উন্নত ও নিরাপদ পৃথিবী গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
২০ বছর পর খুলেছে বাংলা ভাইয়ের মাদ্রাসা
২০ বছর পর খুলেছে বাংলা ভাইয়ের মাদ্রাসা