কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে তামাকমুক্ত ঘোষণা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন অধিদপ্তরের পরিচালক (হর্টিকালচার উইং) ড. মো. হজরত আলী।
এ সময় ড. হজরত আলী বলেন, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অধূমপায়ীরাও সমান স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। একইভাবে জর্দা, গুল, সাদা পাতাসহ ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যও মুখগহ্বরের ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের কারণ। তাই অধিদপ্তরের সব কার্যালয় প্রাঙ্গনে সিগারেট, বিড়ি এবং সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, বিক্রয় ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ এইচ এম নোমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ তামাক ব্যবহার করেন, যেখানে ভারতে এ হার ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, গ্যাটস-২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন ও বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে নিয়মিত পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এছাড়া ১৫ বছরের কম বয়সী ৬১ হাজারের বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানজনিত রোগে আক্রান্ত।
জেবা আফরোজা বলেন, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তামাকজনিত মৃত্যু, চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। পাশাপাশি তামাক চাষে আবাদযোগ্য জমি, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশ ও কৃষির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তাঁর মতে, বিকল্প লাভজনক ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা গেলে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত করা সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্রপস উইংয়ের পরিচালক ড. সালমা লাইজু বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রায় ৬০০টি কার্যালয়ে কর্মরত প্রায় ৮৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রতিদিন সেবা নিতে আসা অসংখ্য কৃষক ও সেবাগ্রহীতা এই উদ্যোগের মাধ্যমে তামাক ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধিকতর সুরক্ষা পাবেন।
তিনি তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।
সভা শেষে অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারবিরোধী গণবিজ্ঞপ্তি, সাইনবোর্ড ও সচেতনতামূলক স্টিকার স্থাপন করা হয়।
ভিওডি বাংলা/এম আই/এফএ








মন্তব্য