বিদেশযাত্রার অনুমতি পেলেন বসুন্ধরা পরিবারের দুই সদস্য

বিদেশযাত্রা নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে তিন মাসের অনুমতি পেয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম ও ছেলে সাফওয়ান সোবহান। ঢাকার আদালত সোমবার এ বিষয়ে আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তাদের বিদেশযাত্রার আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম।
আদালত সূত্র জানায়, গত রোববার (৫ জুলাই) আফরোজা বেগম ও সাফওয়ান সোবহানের পক্ষে বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী এনামুল হক সর্দার। পরে শুনানিতে তাদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইনজীবী মামুন চৌধুরী।
অন্যদিকে দুদকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম, দেলোয়ার জাহান রুমি ও তরিকুল ইসলাম। তারা আবেদনটির বিরোধিতা করেন।
শুনানিতে আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি বলেন, ‘বিদেশযাত্রার অনুমতির আবেদনের বিরুদ্ধে আমরা ঘোর বিরোধিতা করে সকল তথ্য উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করি।’
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদেশ দেন।
এর আগে গত বছরের ১৩ অক্টোবর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সে সময় তৎকালীন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৯ মে একই আদালতে সাফওয়ান সোবহান, আফরোজা বেগম ও সাবরিনা সোবহানের বিদেশযাত্রার আবেদন শুনানি হয়। তখন দুদকের প্রতিবেদনে সাফওয়ান ও আফরোজার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের সুস্পষ্ট তথ্য থাকার উল্লেখ করে তাদের আবেদন খারিজ করা হয়। তবে সাবরিনা সোবহানকে এক মাসের জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন আফরোজা ও সাফওয়ান। গত ২২ জুন তাদের আবেদন নট প্রেস রিজেক্ট হয়।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন আহমদ আকবর সোবহানসহ পরিবারের আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার, রাজস্ব ফাঁকি, ভূমি দখল, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ ছাড়া অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তে দুদক একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য