প্রায় ৫ দশক পর
বাস্তবায়নের পথে শহীদ জিয়ার উদ্যোগ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নেওয়া বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ প্রায় ৪৮ বছর পর বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় পৃথক দুটি নদীবন্দর স্থাপনের লক্ষ্যে সরকার গেজেট প্রকাশ করেছে।
গত বুধবার (৮ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের টি-শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়। সিনিয়র সহকারী সচিব ছন্দা পাল স্বাক্ষরিত গেজেটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) সারিয়াকান্দি ও ধুনটে পৃথক দুটি নদীবন্দর স্থাপনের জন্য সংরক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গেজেট প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বগুড়াজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার দ্রুত নদীবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ ও নৌপথ উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।
জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর স্থাপন এবং সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ পর্যন্ত যমুনা নদীপথে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে সেই পরিকল্পনা দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা (জি) সম্ভাব্য নদীবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের মতে, নদীবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। কৃষকরা স্বল্প খরচে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারবেন, যা উৎপাদন ও বিপণন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।
বর্তমানে বগুড়া থেকে জামালপুর বা ময়মনসিংহ অঞ্চলে যেতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় লাগে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও বৃহত্তর দিনাজপুর থেকে ঢাকায় যেতে যমুনা সেতু ব্যবহার করে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস চালু হলে মাত্র ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার নৌপথ ব্যবহার করে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর এবং রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা এবং চর অতিক্রমের দুর্ভোগও অনেকটাই কমে আসবে।
সারিয়াকান্দির বাসিন্দারা বলছেন, তাদের এখন একটাই প্রত্যাশা, গেজেট প্রকাশের মধ্যেই যেন বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থাকে; দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হোক।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্পনগরী বগুড়া দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। করতোয়া, নাগর, বাঙালি ও যমুনার মতো চারটি বড় নদী থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের নৌ যোগাযোগের সম্ভাবনা কাজে লাগানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগোনোয় বগুড়াবাসী আনন্দিত। নদীবন্দরের গেজেট প্রকাশ উপলক্ষে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতে সারিয়াকান্দিতে একটি সারকারখানা স্থাপনেও তিনি উদ্যোগ নেবেন বলে আশা করছি।
ভিওডি বাংলা/আর








মন্তব্য