• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যেই খাদ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে ‘সুপার’ এল নিনো। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এ জলবায়ুগত ঘটনার প্রভাব ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নোয়া) পূর্বাভাসের বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের এল নিনো চক্র বিশ্বজুড়ে বন্যা ও খরার ঝুঁকি বাড়িয়ে কৃষি উৎপাদন এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সম্ভাব্য তীব্রতার কারণে এ ঘটনাকে ‘সুপার’ বা ‘গডজিলা’ এল নিনো হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

‘সুপার’ এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি চরম জলবায়ুগত অবস্থা, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশ্লেষকদের মতে, এল নিনোর প্রভাব ইতোমধ্যেই কৃষিখাতে দেখা দিতে শুরু করেছে। ভারতে চলতি বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। দেশটির কিছু এলাকায় মাত্র ২৫ শতাংশ এবং মধ্যাঞ্চলের কিছু অঞ্চলে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে গম, চাল ও আখের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের এই অর্থনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এর পূর্ণ প্রভাব ২০২৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে স্পষ্ট হতে পারে।

অন্যদিকে ইতালির ইউনিক্রেডিট ব্যাংক জানিয়েছে, ‘সুপার’ এল নিনোর কারণে বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আর্থিক হিসাবে যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের উৎপাদন ক্ষতির সমান।

ব্যাংকটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে চাল, পাম অয়েল, চিনি ও কফির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কৃষিপণ্যের দাম ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আবারও ‘ক্লাইমেটফ্লেশন’ বা জলবায়ুজনিত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সামনে আসছে।

ইতিহাসও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেয়। অতীতের বিভিন্ন এল নিনো কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। এক শতাব্দীরও বেশি আগে ভয়াবহ এক এল নিনোর কারণে চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, মিশর ও ভারতে তীব্র খরা দেখা দেয়। ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে সেই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে দুর্ভিক্ষে রূপ নেয়। শুধু ভারতে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের মধ্যে ৬০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান        

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ব্ল্যাকআউটের পর স্বাভাবিক হচ্ছে কিউবা
ব্ল্যাকআউটের পর স্বাভাবিক হচ্ছে কিউবা
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, উভয়কে সংযমের আহ্বান পাকিস্তানের
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে ফের করোনার সংক্রমণ, মৃত্যু ২