সরকারি সার পাচার মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে

কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। আদালতে দীর্ঘদিন হাজির না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে আত্মসমর্পণ করলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় একাধিক ধার্য তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে গত ১ জুলাই তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার বড়ইতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের ৪৬০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় সংস্থাটির লোগো এবং উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নাম উল্লেখ ছিল। জব্দ করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. রকিবুল ইসলাম উজ্জ্বল আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন মেহেরপুর শহরের আবু তালেব ওরফে রিপন, উজলপুর গ্রামের সজল, গাংনী উপজেলার সহোগলপুর গ্রামের আব্দুস সালাম এবং বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আনোয়ার হোসেন বেপারী।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার পাচারের উদ্দেশ্যেই পরিবহন করা হচ্ছিল। ঘটনায় আসামিদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে জব্দ করা ৪৫৯ বস্তা সার নিলামে বিক্রি করে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, কৃষকরা যখন ন্যায্যমূল্যে সার পেতে সংকটে পড়েন, তখন কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার পাচারের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ আহমেদ বলেন, মামলাটি বর্তমান উপজেলা কমিটি গঠনের আগের। আদালতের রায়ের পর দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকরাও ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, মৌসুমে সার সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে কৃষকরা ভোগান্তিতে পড়েন। কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/আ








মন্তব্য