বন্যা মোকাবিলায় সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্বাসনের মতো জরুরি বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সভার শুরুতেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর। মানুষের কাছে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় তিনি আরও নির্দেশ দেন, উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ কার্যক্রম, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলমান কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় বজায় রাখার তাগিদও দেওয়া হয়।
সভার আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তিনি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া যাবে না। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছেই যেন সরকারি সহায়তা পৌঁছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর একটি নির্ভুল তথ্যভান্ডার তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সঠিক তথ্যভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করা গেলে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তিনি পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো সচল রাখার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন, যাতে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
সভায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন পরিকল্পনাও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পানি নেমে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র মূল্যায়ন করবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া কৃষিখাতে বন্যার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নতুন বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে কৃষকরা দ্রুত চাষাবাদে ফিরতে পারেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চিকিৎসাসেবা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য