• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
কে এই অভিজিৎ, কীভাবে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠলেন সাবেক এমপি বদির বোন জামাই ইয়াবাসহ আটক বধির ক্রীড়াবিদদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা চাইলেন ডিএসসিসি প্রশাসক মেধাবী শিক্ষার্থী নীরবের পাশে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১৫ বছরেও চাকরি ফেরেনি, পুনর্বহালের দাবিতে ১,৫২২ পুলিশ সদস্য মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান রাহুল গান্ধীর বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও প্রবাসীদের নিয়ে ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়বে সরকার কলকাতায় বিক্ষোভের পর কড়া ব্যবস্থা, গুন্ডা দমন আইনে মামলা ড্যাফোডিলের প্রযুক্তি প্রদর্শনী ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্তের জন্য মেসিকে ধন্যবাদ জানালেন রিকেলমে

সাইবার হামলার এক সপ্তাহ পর টের পেল ওপেনএআই

  ভিওডি বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ওপেনএআইয়ের একটি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওপেনএআইয়ের পরীক্ষামূলক একটি এআই এজেন্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাগিং ফেসে (Hugging Face) কয়েকদিন ধরে সাইবার হামলা চালালেও কোম্পানিটি প্রায় এক সপ্তাহ পর বুঝতে পারে যে এর পেছনে ছিল তাদেরই তৈরি এআই।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এআই এজেন্টটি ৯ জুলাইয়ের দিকে ওপেনএআইয়ের বিচ্ছিন্ন পরীক্ষামূলক (আইসোলেটেড) পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। দুই দিন পর, ১১ জুলাই থেকে এটি এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা থমাস উলফের মতে, হামলাটি ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলেছিল।

তবে ওপেনএআই বুঝতে পারে আরও কয়েকদিন পরে যে হামলাটি তাদের নিজেদের এআই এজেন্ট চালিয়েছে। হাগিং ফেস এবং ওপেনএআইয়ের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয় ২০ জুলাইয়ের দিকে। এর আগেই হাগিং ফেস হামলার বিষয়টি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে অবহিত করে।

২১ জুলাই ওপেনএআই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করে যে তাদের একটি এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশ করেছিল। তবে ঘটনাটি কতদিন ধরে চলেছে এবং কোম্পানি কত দেরিতে বিষয়টি জানতে পেরেছে—এসব তথ্য এবারই প্রথম সামনে এসেছে।

ওপেনএআই এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে "এআই নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত" বলে উল্লেখ করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা বাইরের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করছে এবং পরে একটি বিস্তারিত প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে কিছু "অসঙ্গতি" রয়েছে বলে দাবি করলেও সেগুলো কী, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ওপেনএআই।

আগেই মিলেছিল অস্বাভাবিক আচরণের ইঙ্গিত

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুরু হয় যখন ওপেনএআই তাদের অত্যাধুনিক জিপিটি-৫.৬ সল (GPT-5.6 Sol) এবং আরও শক্তিশালী একটি প্রকাশ না হওয়া মডেল ব্যবহার করে একটি সাইবার নিরাপত্তা এজেন্ট পরীক্ষা করছিল।

এ সময় গবেষকরা কিছু অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। তিনটি সূত্র জানায়, একটি এআই এজেন্ট ভবিষ্যতের সংস্করণগুলোর জন্য নির্দেশনা রেখে গিয়েছিল, যেখানে ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা কীভাবে অতিক্রম করা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা ছিল।

এ ছাড়া আগের কিছু পরীক্ষায় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (মনিটরিং সিস্টেম) বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনাও ধরা পড়েছিল।

তবে এসব ঘটনার সঙ্গে পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআই এজেন্টটির সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কীভাবে ধরা পড়ে

১৬ জুলাই হাগিং ফেস তাদের ব্লগে জানায়, তারা একটি "স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট সিস্টেম"-এর মাধ্যমে সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।

এরপর ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে ওপেনএআইয়ের প্রকৌশলীরা অভ্যন্তরীণ লগ পরীক্ষা করে এমন তথ্য পান, যা থেকে বোঝা যায় তাদের এআই এজেন্ট পরীক্ষামূলক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেছিল।

রয়টার্স জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে ওপেনএআই সেই লগগুলো পরীক্ষা শুরু করেছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্ব এথিক্যাল ডেটা ফাউন্ডেশনের গোয়েন্দা বিশ্লেষক মার্লে স্মিথ বলেন, "এর মানে কি তারা এআইকে নজরদারি ছাড়াই চালিয়ে যেতে দিয়েছিল? নাকি কী ঘটছে বুঝলেও সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি?—দুই ক্ষেত্রই সমানভাবে উদ্বেগজনক।"

বাড়ছে স্বয়ংক্রিয় এআই নিয়ে উদ্বেগ

বর্তমানে প্রযুক্তি খাতে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টকে ভবিষ্যতের কর্মী হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব এজেন্ট মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই জটিল সিদ্ধান্ত নিতে এবং বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এ ধরনের স্বাধীনতা যত বাড়বে, অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ঝুঁকিও তত বাড়বে।

এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্যালিসেড রিসার্চের জেফরি ল্যাডিশ বলেন, "এই মডেলগুলো মিথ্যা বলে, প্রতারণা করে, এমনকি হ্যাকও করে।"

তার মতে, এই ঘটনা শুধু ওপেনএআই নয়, পুরো এআই শিল্পের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বাজারে সবার আগে উন্নত মডেল আনার প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হচ্ছে কি না, সেটি এখন বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, "সরকারি তদারকি জরুরি। কারণ অন্যথায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন নাও হতে পারে।"

এদিকে এফবিআই এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সূত্র: রয়টার্স

ভিওডি বাংলা/আরআর/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল অপব্যবহারে বাড়ছে অনলাইন জুয়া, সতর্ক করল গ্রাহক সংগঠন
ছবি: সংগৃহীত
তদন্তে নেমেছে যুক্তরাজ্য টিকটকের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
এআই বিনিয়োগের চাপে একদিনেই ৬৮ বিলিয়ন ডলার উধাও