সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে বিমান পরিবর্তন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে গোয়েন্দা সতর্কবার্তার ভিত্তিতে তিনি তার যাত্রাবহরের বিমান বদল করতে বাধ্য হন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঙ্কারা ত্যাগের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন মডেলের বোয়িং ৭৪৭-৮ এর পরিবর্তে তুলনামূলক পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে আরোহণ করেন। কাতার সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া ওই নতুন বিমানটিতে সমকক্ষ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মার্কিন ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, ইরানি প্রক্সি বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের জীবনের ওপর সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি ছিল।
এই বিমান বদলের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইসরায়েলের পক্ষ থেকে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে দাবি করা হয় যে ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের কোনো কোনো কর্মকর্তা মনে করছেন, ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপে উসকে দেওয়ার জন্যই ইসরায়েল এই গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে থাকতে পারে।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডার ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে এক লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলায় নিহত হন দেশটির দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও দাবি করেন যে তিনি ইরানের হিটলিস্টে রয়েছেন এবং তার ওপর কোনো হামলা হলে ইরানের বিরুদ্ধে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হুমকি দেন।
অন্যদিকে, নিহত নেতার ছেলে এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খেমেনি গত মাসে তার বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও তিনি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও জানাজা ও বিভিন্ন প্রতিবাদ সমাবেশে সাধারণ ইরানি নাগরিকদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু









মন্তব্য