• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

মাছ-মাংসের বাজার চড়া, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এ.এম.
মাছ, মাংস ও ডিমের দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে। ছবি: সংগৃহীত
মাছ, মাংস ও ডিমের দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর খুচরা বাজারে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। বিশেষ করে ডিম, ব্রয়লার মুরগি এবং কয়েক ধরনের মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় আরও বেড়েছে। তবে সবজির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে ক্রেতাদের।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও ও মগবাজারের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরু ও খাসির মাংসের দাম আগের অবস্থানেই রয়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগি, ডিম এবং কয়েকটি জনপ্রিয় মাছের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কোরবানির ঈদের পর মুরগি ও মাছের চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে সরবরাহ না বাড়ায় বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে একই মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে। প্রতি কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও কিছু বাজারে ফার্মের ডিমের দাম ১১৫ থেকে ১২৫ টাকার মধ্যেও পাওয়া যাচ্ছে।

আগারগাঁও বাজারের মুরগি বিক্রেতা ইউসুফ আলী বলেন, কোরবানির মাংস শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন অনেক পরিবার আবার মুরগির দিকে ঝুঁকছে। ফলে চাহিদা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

মাংসের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে খাসির মাংস কিনতে হলে প্রতি কেজিতে গুনতে হচ্ছে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশুর খাদ্য, পরিবহন ব্যয় এবং উৎপাদন খরচ বেশি থাকায় মাংসের দাম কমার তেমন সম্ভাবনা আপাতত নেই।

মাছের বাজারে এখনও উচ্চমূল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ইলিশ, চিংড়ি, ট্যাংরা ও বড় আকারের রুই সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে।

বর্তমানে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায়। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

এ ছাড়া মানভেদে চিংড়ি মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে কিছু চাষের মাছের দাম তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। চাষের কই, তেলাপিয়া ও পাঙাশের কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় এবং চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে হলে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তদার সাইদুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস ধরেই মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। তাঁর মতে, বড় আকারের মাছ ও চিংড়ির দাম সব সময়ই তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে ইলিশের বর্তমান দাম অস্বাভাবিক। গত কয়েক বছরে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই হারে না বাড়ায় ইলিশের দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে।

মাছ-মাংসের তুলনায় সবজির বাজারে স্বস্তি রয়েছে। মৌসুমি বেশ কয়েকটি সবজি এখন ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

চিচিঙ্গা, ধুন্দল, পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেগুন ও বরবটির দাম কিছুটা বেশি। এই দুটি সবজি প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচের দামও তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে মৌসুম শেষ হওয়ায় টমেটোর দাম আবার বেড়েছে। গত সপ্তাহে যেখানে টমেটো ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন তা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।

আলুর দামও সামান্য বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় দুই থেকে তিন টাকা বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে আগামী কয়েক দিনে সবজির দাম আরও কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চালের বাজারে আগের উচ্চমূল্যই বহাল রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের চালের দামে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। একইভাবে ডালের বাজারও আগের সপ্তাহের মতোই চড়া রয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এখনও পুরোপুরি স্বস্তি ফিরছে না।

ভিওডি বাংলা/জা

 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফাইল ছবি
অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফন
ছবি: সংগৃহীত
আধুনিক প্যাকিং ইউনিটে বিশ্ববাজারে নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের
ফাইল ছবি
হরমুজ সংকটে বাংলাদেশে এলএনজি কমাচ্ছে কাতার