ব্যালন ডি’অরের নতুন হিসাব, কার পাল্লা ভারী?

বিশ্বকাপের আলো নিভে গেছে। কিন্তু ফুটবল দুনিয়ার উত্তাপ এখনো কমেনি। নিউ ইয়র্কে স্পেনের বিশ্বজয়ের উল্লাস শেষ হতেই শুরু হয়েছে নতুন এক প্রতীক্ষা। কে হতে যাচ্ছেন মৌসুমের সেরা ফুটবলার? সবুজ মাঠের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি পাঁচ তারকা। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে উঠবে সেই কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারের পর্দা।
বিশ্বকাপের বছর হওয়ায় এবারের ব্যালন ডি’অরের সমীকরণে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স পেয়েছে বাড়তি গুরুত্ব। ক্লাব ফুটবলের ধারাবাহিকতা, ব্যক্তিগত সাফল্য আর বিশ্বমঞ্চের ঝলক-- সবকিছুর যোগফলেই নির্ধারিত হবে ফুটবলের রাজমুকুট কার হাতে উঠবে।
সবার আগে আলোচনায় লিওনেল মেসি। বয়সটা ৩৯ ছুঁলেও জাদুকরী ছোঁয়ায় এখনো তিনি মুগ্ধ করে চলেছেন ফুটবল বিশ্বকে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনাল পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া, ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট, সবমিলিয়ে মেসির অভিযান ছিল এক মহাকাব্যের মতো। স্পেনের কাছে শিরোপা হাতছাড়া হলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি লিখেছেন আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। নবম ব্যালন ডি’অরের হাতছানি তাই এখনো তার সামনে।
তবে নতুন প্রজন্মের প্রতীক হয়ে লড়াইয়ে আছেন লামিন ইয়ামাল। বয়স যেখানে অনেকের কাছে শুরুর সময়, সেখানেই মাত্র ১৯ বছর বয়সে বার্সেলোনা ও স্পেনের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন তিনি। ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্টে সাজানো মৌসুম, লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপের সাফল্য এবং বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ইয়ামাল প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু ভবিষ্যৎ নন। বর্তমানেরও বড় নাম।
গোলের ক্ষুধা আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় এগিয়ে আছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৩৬ গোল করে জিতেছেন ক্লাব পর্যায়ের গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপে ৬ গোল করে ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের রেকর্ড। ব্যক্তিগত অর্জনের সঙ্গে বায়ার্নের ঘরোয়া ডাবল সাফল্য কেইনের দাবিকে করেছে আরও শক্তিশালী।
মাঝমাঠের রাজত্বে নিজের আলাদা সাম্রাজ্য গড়েছেন রদ্রি হার্নান্দেজ। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারণ ছিলেন তিনি। বল পায়ে নিয়ন্ত্রণ, ম্যাচের গতি নির্ধারণ আর চাপের মুহূর্তে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাকে করেছে অনন্য। ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল বিশ্বমানের। ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
আর ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের ঝড় তোলা নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা, লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুটজয়ী এই ফরাসি তারকা পুরো মৌসুমে ছিলেন গোলের মেশিন। দলীয় সাফল্যে কিছুটা অপূর্ণতা থাকলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে তিনি ছিলেন সবার নজরের কেন্দ্রে।
মেসির অভিজ্ঞতার মহিমা, ইয়ামালের বিস্ময়কর উত্থান, কেইনের গোলবন্যা, রদ্রির নেতৃত্ব আর এমবাপ্পের ধারাবাহিকতা-- সবমিলিয়ে এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াই হয়ে উঠেছে সময়ের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ। এখন অপেক্ষা শুধু সেই মুহূর্তের, যখন ফুটবল বিশ্ব জানবে, রাজত্বের মুকুট উঠবে কোন তারকার মাথায়।
ভিওডি বাংলা/আর








মন্তব্য