ফেনীতে বন্যার শঙ্কা, খুলে দেওয়া হলো মুহুরীর ৪০ গেট

পাহাড়ি ঢল ও টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া এবং সিলোনিয়া নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত বঙ্গোপসাগরে নামিয়ে দিতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুহুরী সেচ প্রকল্পের সব ৪০টি রেগুলেটর গেট খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবো জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা উজানের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের ৪০টি জলকপাটই সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত ফেনী নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক এবং মাতামুহুরী উপজেলার বাসিন্দা সাংবাদিক আলাউদ্দিন আলো বলেন, "বিকাল ৩ টা থেকে বেতুয়া বাজার বিল, কোনাখালী খাল, কোনাখালী ২ ব্যান্ডের স্লুইসগেট, কোনাখালী বাংলা বাজারের পাশের ২টি মাছের প্রজেক্টের নাশি, ঢেমুশিয়া ক্রসডেম ৫ ব্যান্ডের স্লইজগেটসহ মাতামুহুরী উপজেলার অধিকাংশ জায়গার স্লুইসগেট খোলা আছে এটি যদি আজ রাতে খোলা থাকে এভাবে তাহলে অবশ্যই সম্পূর্ণ পানি নেমে যাবে।"
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় একযোগে সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। জোয়ারের সময় ছাড়া সারাদিনই পানি নিষ্কাশন চলছে। একই সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জোয়ারের সময় বঙ্গোপসাগরের পানি যাতে উল্টো স্রোতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে দুইবার প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য গেটগুলো বন্ধ রাখা হয়। জোয়ার শেষ হলে আবার সব গেট খুলে পানি নিষ্কাশন অব্যাহত রাখা হয়।
১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে মুহুরী সেচ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় এর কাজ শেষ হয়। ফেনী, মুহুরী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহে বাঁধ নির্মাণ করে ৪০ ফোক্ট বা গেটবিশিষ্ট এই পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলা হয়।
সিডা, ইইসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জাপানের সিমুজু কোম্পানি প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি নির্মাণ করে। ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একাংশে বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি কমানো এবং আমন চাষে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ২০ হাজার ১৯৪ হেক্টর এবং সম্পূরকভাবে ২৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য