• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

চাকরির টোপ, শত কোটির প্রলোভন- নজরুলকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

  মো. মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশ:  ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ পি.এম.
শেয়ার করুন 6
গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নারীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একের পর এক ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় নতুন করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তাঁর সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান। ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে দাবি করে তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে মুঠোফোনে ভিওডি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, প্রথম ভাইরাল ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর ভাগ্নি। তিনি বলেন, "মেয়েটিকে চাকরির প্রলোভন, মেয়ের বাবাকে কন্ট্রাক্টর বানিয়ে দেওয়া এবং একশ কোটি থেকে হাজার কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে এসব চলছিল।"

তিনি বলেন, "লোভ দেখিয়ে মেয়েটাকে ভোগ করার বিষয়টি আমি জানতে পারার পর আমাকে নানা ধরনের আকাশ-কুসুম লোভ দেখানো হয়। আমাকে পিএ-টু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, একটি গাড়ি কিনে দেওয়া হবে। ঢাকায় এমপি যতদিন থাকবেন ততদিন আমি গাড়ি চালাব, আর বাকি সময় গাড়িটি আমার কাছেই থাকবে। কিন্তু আমি আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে পারিনি।"

ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে হলে শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন ছিল। "আমি তার সঙ্গে কয়েকদিন ছিলাম শুধু প্রমাণ সংগ্রহের জন্য। আগেও বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের কথা জানতাম, কিন্তু হাতে প্রমাণ ছিল না। তাই এক সপ্তাহ তার সঙ্গে থেকে সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। ওই এক সপ্তাহ আমার কাছে ছিল অত্যন্ত কষ্টের। এত অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয় আমি মেনে নিতে পারিনি।"

তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বোনের জামাই তাকে চুপ থাকার পরামর্শ দেন। "সে বলেছিল, এমপিকে হাতে রাখতে হবে। সামনে অনেক কাজ আছে, কন্ট্রাক্টর হতে হবে, শত কোটি টাকার কাজ ধরতে হবে। এসব শুনে আমি ঘৃণায় ক্ষুব্ধ হয়ে যাই এবং জানিয়ে দিই, অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না।"

মুখ বন্ধ রাখতে অর্থ দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। "ওই মেয়ের (ভাগ্নি) মাধ্যমে আমাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছিল। আমি সেই টাকা গ্রহণ করিনি, ফেরত দিয়েছি। বিষয়টি এমপির পিএও জানে।"

তিনি আরও বলেন, ভাগ্নির ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন তিনি উদ্ধার করেন। "মোবাইলটির সিম ছিল দেলোয়ার মাস্টার নামে একজনের। সিমের নম্বরও আমার কাছে আছে। তদন্তে তাকে খুঁজে বের করলে সত্যতা পাওয়া যাবে।"

ভাইরাল ভিডিওতে থাকা তরুণীর সঙ্গে এমপির বিয়ের বিষয়ে ওবায়দুর রহমান বলেন, "ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আমার বোনের জামাই মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে শ্যামনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আমার ধারণা, তখনই হয়তো তড়িঘড়ি করে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে কিংবা পরে আগের তারিখ দেখিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে। এর আগে বিষয়টি 'মুদরা বিয়ে' বলে চালানো হচ্ছিল। প্রচারিত বিয়ের তারিখ সঠিক নয়।"

মগবাজারের ভাইরাল ভিডিও পরিকল্পিতভাবে ধারণ করে এমপিকে ফাঁসানো হয়েছে-এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। তার দাবি, "ওই ভবনের ম্যানেজার রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। ভিডিওটি সিসিটিভির নয়, স্পাই ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছিল।"

হত্যাচেষ্টার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাকে মেরে ফেলার সময় তারা বলছিল, 'তোকে বাঁচাইলে আমরাও বাঁচতে পারবো না। আমাদের সব শেষ, এমপিগিরি শেষ।' আমাকে চার থেকে পাঁচ মিনিট শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে গেছি।"

হামলাকারীদের পরিচয় নিয়েও অভিযোগ করেন ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, "হামলাকারীদের একজন আমার চাচাতো ভাই। বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে তার পুলিশের চাকরি চলে যায়। পরে এমপির আশপাশে ঘোরাফেরা করত চাকরি ফেরানোর আশায়। এমপির নির্দেশেই সে অন্যদের নিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে।"

তিনি আরও বলেন, "আমি যার কাছেই গিয়েছি, অনেকেই পরে তাদের প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেছে। কিন্তু আমাকে তারা কিনতে পারেনি। আমি যা বলছি, সবই সত্য। এক সপ্তাহ ধরে সবকিছু যাচাই-বাছাই করার পরই আমি প্রকাশ্যে এসেছি। খুব শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে আরও তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরব। আমি যদি সত্য বলার কারণে শাস্তি পাই, তাতেও প্রস্তুত আছি। আমি শুধু একজন খারাপ মানুষের মুখোশ উন্মোচন করেছি।"

ভিওডি বাংলা/ এম আই/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতের নাম থেকে ‘ইসলামী’ শব্দ বাদ দেওয়ার দাবি যুবদল সভাপতির
ছবি: সংগৃহীত
‘তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে’
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ: মির্জা ফখরুল