• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নতুন নামে পুলিশের ‘অ্যান্টি টেররিজম’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম’ ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষায়িত ইউনিট অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কার্যপরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাবও দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ সদর দপ্তর (পিএইচকিউ) গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার অনুমতি চেয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সহিংস উগ্রবাদের পাশাপাশি নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও বিস্তৃত ও আধুনিক কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এর পরদিন ৮ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে পাঠানো পৃথক এক চিঠিতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও জোরদার করতেই এই পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের বিদ্যমান মূল নিরাপত্তা দায়িত্ব বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলে অতীতের কিছু বিতর্কিত অভিযান বা প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থেকে সংস্থাগুলো বেরিয়ে এসে জনআস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে।

আইজিপির পক্ষে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তার এবং তথ্যপ্রবাহের গতি বৃদ্ধির ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরনও বদলে গেছে। তাই প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

২০১৬ সালে রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর এটিইউ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ মোট ২২ জন নিহত হন। পরে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ইউনিটটি। বর্তমানে এটিইউতে অনুমোদিত জনবল রয়েছে ৬২০ জন এবং এটি সারা দেশে বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট হিসেবে কাজ করছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন আরও আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করছে। তাদের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব গোষ্ঠী ধর্মের অপব্যাখ্যা ব্যবহার করে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করে গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ সম্পৃক্ত করার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।

এসব পরিবর্তিত বাস্তবতায় এটিইউকে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটে’ রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর আওতায় ইউনিটটি শুধু জঙ্গিবাদ দমন নয়, বরং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা রক্ষায়ও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হওয়ায় বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়বে। এ পুনর্গঠন ও নাম পরিবর্তনের কারণে সরকারের অতিরিক্ত কোনো ব্যয় হবে না বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে এটিইউ ও সিটিটিসির ভেতরে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ইউনিটের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সংস্থার ওপর অতিরিক্ত ও ভিন্নধর্মী দায়িত্ব চাপানো হলে তাদের মূল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এটিইউর এক কর্মকর্তা বলেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা কোনো বিশেষায়িত ইউনিটকে অতিরিক্ত বহুমুখী দায়িত্ব দিলে তাদের মূল দক্ষতা ও সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু নাম পরিবর্তনের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত দায়িত্ব আরোপ করা হলে জঙ্গিবাদ দমনে ইউনিটটির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা
 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীন গণমাধ্যম ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি ফরম পূরণ করেও পরীক্ষা দিতে না পারার খবরটি সত্য নয়
ছবি: সংগৃহীত
৪৮ ঘণ্টায় সারাদেশে পার্সেল পৌঁছে দেবে ডাক বিভাগ