রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগের বিনিময়েই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
নিজেকে পেশাদার বিশ্লেষক নয়, বরং মাঠের রাজনীতির একজন কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেশের রাজনীতি ও মানুষের প্রত্যাশা সম্পর্কে উপলব্ধি অর্জন করেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। তবে জনগণের শক্তি ও নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।
সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনীতির পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকর করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিল্পায়ন, কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাজেটে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারে ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সাহস, ঐক্য ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে একটি উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
সেমিনারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বৈশ্বিক পরিবর্তন, অর্থনীতি, রাজনীতি, উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং নীতিগত করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ভিওডি বাংলা/আ









মন্তব্য