• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর যেমন ছিল বঙ্গভবনের সামনের দৃশ্য তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে খলিলুলের পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এনটিএর ৪৭ কর্মকর্তা বরখাস্ত সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল স্মরণে দোয়া মাহফিল ও শোকসভা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ফ্যাসিবাদের শেষ ছায়াও সরে গেল: জামায়াত আমির মোদী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম সিজেপির সাহাবুদ্দিন সবসময় জনগণের সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন বিএনপি নেতার ওপর হামলা, জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি আবদুস সালামের তিন বছরে তিন সরকারকে শপথ পড়িয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন থাইল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক

সাহাবুদ্দিন সবসময় জনগণের সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন

  ভিওডি বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৬ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: ভিডিও থেকে
ছবি: ভিডিও থেকে

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও, পরবর্তী সময়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি তিনি সমর্থন ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমার মনে হয়, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সব সময়। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।”

এর আগে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিকেল সাড়ে ৫টায় সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি জানান, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।

স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্র সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নথিতে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার পক্ষে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় এবং শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলেও জানান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ই প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি শপথ নিয়েছিলেন। একইভাবে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন, এমন সাংবিধানিক বিধান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ছড়ানো নানা গুঞ্জনের বিষয়ে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আজ বাংলাদেশের নানা ধরনের কথাবার্তা আমি দুপুরে এসেই শুনছি। দেখা গেল যে, এটি প্রকৃত তিনি শারীরিক অসমর্থের কারণে পরিত্যাগ করেছেন। আমি তাঁর মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।”

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর ঘটনা। তবে রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ, তিনি অসুস্থ হতে পারেন এবং নিজের অসুস্থতার বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এ নিয়ে কোনো ধোঁয়াশার সুযোগ নেই।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি দেশের একজন সম্মানিত মাননীয় রাষ্ট্রপতি। তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন এবং এই চেয়ার কখনো শূন্য থাকে না। আমি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি।”

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি দায়িত্বে ছিলেন। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় পাঁচ মাস পর তিনি পদত্যাগ করলেন। তার মেয়াদের এখনও প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি ছিল।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

 
 
 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফাইল ছবি
বিএনপি নেতার ওপর হামলা, শেখ রবিউলের কঠোর বার্তা
ছবি: সংগৃহীত
মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন মো. সাহাবুদ্দিন: স্পিকার
ফাইল ছবি
স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল