সাভারে নারী হত্যা: দুই সপ্তাহের মধ্যে মূল আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি

সাভারে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় দুই সপ্তাহের মধ্যে মূল আসামি মো. মাসুম ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পিবিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই জানায়, গত ১৪ জুলাই কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতে পালানোর চেষ্টার সময় মাসুম ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সংস্থাটি জানায়, গত ২ জুলাই দুপুরে সাভার থানার বড়দেশী এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ৩৯ বছর বয়সী শারমিন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ফরেনসিক দল বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। নিহতের বাবা মো. শাওকাত হোসেন পরদিন সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে ৮ জুলাই পিবিআই ঢাকা জেলা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, গ্রেপ্তার হওয়া মাসুম ইসলাম প্রজাপতি পরিবহনের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি সাভারের কাতলাপুর এলাকায় তার বাবার চায়ের দোকানেও কাজ করতেন। ওই দোকানের পেছনের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন নিহত শারমিন আক্তার। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তদন্তে জানা গেছে।
পিবিআই আরও জানায়, ঘটনার আগের রাতে দুজনের মধ্যে মোবাইল ফোনে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরদিন মাসুম শারমিনের বাসায় যান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে আবারও বিরোধ সৃষ্টি হলে শারমিনের ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও আসামির স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতও জব্দ করা হয়েছে।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ বলেন, ঘটনার পরপরই ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করা হয়। নিরলস তদন্তের মাধ্যমে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে মূল আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য