• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে মনপুরার নিম্নাঞ্চল

ভোলা প্রতিনিধি    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা পাঁচ দিনের বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে গত পাঁচ দিন ধরে দমকা হাওয়ার সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিনভরও উপকূলজুড়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত ছিল। টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আঙিনা তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরের ভেতরে দুই থেকে তিন ফুট পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টির কারণে কাজ করতে বের হতে না পারায় অনেক পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ঘরের রান্নার চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেকেই অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন, দাসেরহাট, সোনারচর ও চরজ্ঞান; সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া ও মাস্টারহাট; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর এবং মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিরপাড় গ্রাম। এর মধ্যে হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাসেরহাট এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক বলে জানা গেছে।

দাসেরহাট এলাকার বাসিন্দা মফিজ মিস্ত্রি বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে মানুষ দুর্ভোগে থাকলেও এখনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেননি।

এদিকে ভোরের জোয়ারে উপজেলার বেড়িবাঁধবিহীন চরকলাতলী ইউনিয়নের কাজীরচর ও ঢালচরের নিম্নাঞ্চল দুই থেকে তিন ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু মুছা বলেন, পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পানিবন্দি মানুষের সহায়তার বিষয়ে তিনি জানান, অর্থবছরের হিসাব সমাপনের কারণে সাময়িক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে নতুন বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে দ্রুত সহায়তা বিতরণ করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, ভাটার সময় মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেলের জোয়ারে পানি আরও বাড়তে পারে।

তিনি আরও জানান, মনপুরা উপকূলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের একটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।

ভিওডি বাংলা/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় মিলল বিএনপি নেতার মরদেহ
ছবি: ভিওডি বাংলা
জুলাইয়ের আগের দৃশ্যই এখনো দেখছি: সারজিস আলম
ফাইল ছবি
পণ্য খালাসে দেরি, এলসিএল কার্গোতে চার গুণ জরিমানা