ইরান নীতিতে নিজ দলেই চাপে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বৈঠকে ইরান নীতি এবং সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর। এর মধ্যে সিনেটর বিল ক্যাসিডির সঙ্গে ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও তর্ক-বিতর্কের ঘটনাও ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ক্যাসিডি। তার দাবি, চুক্তিতে ইরানকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি থাকলেও যুদ্ধের শুরুতে প্রশাসন যে লক্ষ্য ও কৌশলের কথা বলেছিল, বাস্তবে তা অর্জিত হয়নি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্যাসিডি বলেন, জনগণের সামনে আরও স্পষ্ট তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই বিতর্কের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আটকে দিতে রিপাবলিকান নেতৃত্ব সিনেটে গভীর রাতে ভোটাভুটির আয়োজন করে। মে মাসে উত্থাপিত যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত ওই প্রস্তাব ৫০-৪৭ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।
ভোটের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই ফলাফল ইরানের প্রতি একটি শক্ত বার্তা বহন করে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের ফল আগের নীতিগত সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেই প্রশ্ন ও সমালোচনা বাড়তে শুরু করায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এদিকে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ-সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৭০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার) বরাদ্দ চেয়েছে। এই অর্থ অনুমোদিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ৮৬৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট আরও বৃদ্ধি পাবে।
সিনেটের ভোটাভুটিতে বিল ক্যাসিডি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ অবসান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল ভোটদানে বিরত থাকেন।
রিপাবলিকান দল থেকে মেইনের সুসান কলিন্স এবং আলাস্কার লিসা মুরকোভস্কি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। বিপরীতে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান ছিলেন একমাত্র ডেমোক্র্যাট, যিনি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সাবেক রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর মাইকেল বেনেট ভোটাভুটিতে অংশ নেননি।
তবে পরবর্তীতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিল ক্যাসিডি জানান, ইরান ইস্যুতে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ের জন্য তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউজ দ্রুত তথ্য সরবরাহ করায় তিনি সন্তোষও প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ ও তা ঘিরে প্রশাসনের কৌশল নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেই যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা আগামী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ভিওডি বাংলা/আরআই/এফএ








মন্তব্য