• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, তদন্তে এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২৯ পি.এম.
টিউলিপ সিদ্দিক-ছবি সংগৃহীত

শেখ রেহানার মেয়ে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বাংলাদেশে ট্যাক্স ফাইল খুলে রিটার্ন জমা দিয়েছেন এবং ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেছেন। অথচ যুক্তরাজ্যে এসব তথ্য গোপন করেছেন।

এনবিআরের নথি অনুযায়ী, টিউলিপ নিজেকে বাংলাদেশের অধিবাসী হিসেবে উল্লেখ করে ট্যাক্স ফাইল খুলেছেন। বিষয়টি এখন ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলার কারণ হতে পারে।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দুদকের আইনজীবী বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) টিউলিপ সিদ্দিকের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব আছে। যদিও টিউলিপ বলে আসছেন, তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নেই। যুক্তরাজ্যের সাবেক ‘সিটি মিনিস্টার’ টিউলিপ এখন বাংলাদেশে বিচারের মুখোমুখি।

বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি প্লট নেওয়ার অভিযোগে আগস্টের প্রথমার্ধে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানির ফাঁকে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এই এমপি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

সুলতান মাহমুদ আরও বলেন, “টিউলিপ সিদ্দিকের ঠিকানা, একাধিক পাসপোর্ট এবং ভোটার তালিকায় তার নাম—সব পাওয়া গেছে। আমরা যথাসময়ে এগুলো দাখিল করব।”

খালা, মা ও দুই ভাই-বোনসহ টিউলিপের বিরুদ্ধে ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বেআইনিভাবে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ আনে দুর্নীতি দমন কমিশন। সংস্থাটির আইনজীবীরা দাবি করেন, প্লট পাওয়ার যোগ্যতার নিয়ম এড়াতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি সুলতান মাহমুদ বলেন, টিউলিপের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় থাকা ঠিকানায় একটি সমন পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ভোটার আইডি কার্ডে থাকা ঠিকানাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছিল। তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি পাসপোর্ট আছে। আমাদের দুদক টিমগুলো, একাধিক টিম তদন্তের জন্য সেসব ঠিকানায় গিয়েছিল এবং যথাসময়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

টিউলিপ সিদ্দিক গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি মিনিস্টারের (ইকোনমিক সেক্রেটারি) পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ পদে দেশটির আর্থিক খাতে দুর্নীতি রোধের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

এ অভিযোগকে টিউলিপ সিদ্দিক ‘হয়রানি ও প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিরোধীদের দমন করার জন্য সরকার তাকে টার্গেট করছে।

প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিটি মিনিস্টারের (ইকোনমিক সেক্রেটারি) পদ থেকে পদত্যাগ করেন টিউলিপ। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে দুর্নীতি ও সম্পদ-সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট প্রকাশের পর রাজনৈতিক চাপের মুখেই তার পদত্যাগ ঘটে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা চীন সফরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা চীন সফরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী
ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল
ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল