নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র ডাকাতদের হামলায় অন্তত ২০ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুপুরের দিকে সংঘটিত এই হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা নাসিরু লাওয়ালি জানান, বিকেল তিনটা থেকে চারটার মধ্যে বিপুলসংখ্যক অস্ত্রধারী হামলাকারী এলাকায় ঢুকে পড়ে। তারা নির্বিচারে গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ প্রাণ হারান। হামলার পর আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়ে চলে যান।
বিশ্লেষকদের মতে, নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র ডাকাত চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে গ্রামাঞ্চলে হামলা, লুটপাট এবং মুক্তিপণের জন্য অপহরণের মতো অপরাধ চালিয়ে আসছে। এসব ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে।
এদিকে পৃথক এক অভিযানে কোয়ারা রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তিনজন সন্দেহভাজন ডাকাতকে হত্যা করেছে। একই অভিযানে তুহকুর সানি নামে অপহৃত এক ব্যবসায়ীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারামের সশস্ত্র তৎপরতার পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে অপহরণ বাণিজ্যও বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসবিএম ইন্টেলিজেন্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ আদায় করেছে।
এর আগে ওয়ো রাজ্য থেকে অপহৃত একদল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ৫৬ দিন পর উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু জানিয়েছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অভিযানে কয়েকজন হামলাকারী নিহত হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মুসার দাবি, আটক কমান্ডারদের মুক্ত করতে অপহৃত ব্যক্তিদের জিম্মি হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
সূত্র: আল জাজিরা ও এএফপি
ভিওডি বাংলা/জা









মন্তব্য