• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই নগরী সম্ভব নয় বিডার ভরসা দেশি বিনিয়োগে ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, তুমুল বিতর্ক চোখের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অপটোমেট্রি পেশার স্বীকৃতি প্রয়োজন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সদরঘাটে নৌ পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার মাদক প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠনের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ১২ হাজার কোটি টাকা বনদস্যুতা নির্মূলে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে: কোস্ট গার্ড ডিজি পর্তুগালের ড্রতে র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় পরিবর্তন, লাভে ব্রাজিল

চলতি বছর টাকা পাচ্ছেন না ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৪ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে মার্জারের (একীভূতকরণ) আওতাভুক্ত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা চলতি বছরের মধ্যে তাদের টাকা উত্তোলন করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে, এই বছরের মধ্যে কোনও অর্থ বিতরণ হবে না এবং এখনও নির্দিষ্ট কোনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৯ ডিসেম্বর থেকে উত্তোলন শুরু হবে এমন খবর ‘ভিত্তিহীন ও অসত্য’ বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অস্বীকার করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ২৯ ডিসেম্বরের তথ্য সঠিক নয়।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন বছরের শুরু থেকে ধাপে ধাপে টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে। যাদের হিসাবের টাকা দুই লাখের বেশি, তারা প্রথমে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এরপর প্রতি তিন মাসে এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। তবে ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং ক্যানসারে আক্রান্ত গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও সময় যে কোনও পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে একীভূত ব্যাংকের শাখা থেকে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এই অর্থ প্রদান হবে আমানত বিমা তহবিল থেকে। একজন গ্রাহক একাধিক হিসাব থাকলে কেবল একটি হিসাব থেকেই উত্তোলন করতে পারবেন। তবে যদি একই ব্যক্তির পাঁচটি ব্যাংকে হিসাব থাকে, প্রতিটি ব্যাংক থেকে নির্ধারিত অঙ্ক উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, এই স্কিমের মূল লক্ষ্য হলো আমানতকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপন করা এবং ধাপে ধাপে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে অধিগ্রহণের জন্য ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি এবং আমানত বিমা তহবিল থেকে আসছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

এদিকে, একীভূত ব্যাংকগুলোর শেয়ার শূন্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের প্রকৃত সম্পদের মূল্য ঋণাত্মক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচটি ব্যাংকে ৭৫ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা থাকলেও ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার অধিকাংশ খেলাপি।

ব্যাংকভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ২২ লাখ ২ হাজার ১৯ জন আমানতকারী রয়েছেন, তাদের আমানত ২,৫০২ কোটি টাকা। এক লাখ এক টাকা থেকে দুই লাখ টাকার আমানতকারীর সংখ্যা এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৬ জন, জমা ২,২০১ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ১২ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৮ জন, জমা ১,২০২ কোটি; এক লাখ এক টাকা থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে ৮৬ হাজার ১৫৮ জন, জমা ১,২৫৩ কোটি। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৪০৮ জন, জমা ১,৫১১ কোটি; এক লাখ এক টাকা থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৪০৬ জন, জমা ২,২৫৫ কোটি। ইউনিয়ন ব্যাংকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৬০ জন, জমা ৭০৭ কোটি; এক লাখ এক টাকা থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৯১২ জন, জমা ৫৫৭ কোটি। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ জন, জমা ৬৩১ কোটি; এক লাখ এক টাকা থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ২৮ হাজার ৬৪৪ জন ও জমা ৪২৮ কোটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বছরের শুরুতেই ধাপে ধাপে টাকা উত্তোলনের এই উদ্যোগ আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ইসলামী ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটাতে সহায়ক হবে।

এভাবে নতুন বছরে ধীরে ধীরে আমানতকারীরা তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন, যা ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জনসাধারণের আস্থা পুনঃস্থাপন করবে।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব
তামাকপণ্য সহজলভ্য হলে রাজস্ব আয় কমবে: আহছানিয়া মিশন
তামাকপণ্য সহজলভ্য হলে রাজস্ব আয় কমবে: আহছানিয়া মিশন
প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল: সিপিডি
প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল: সিপিডি