• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
সংসদে কোনো ঋণখেলাপি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেষ ২৩ মিনিটে ৫ গোল, বসনিয়াকে ৪-১ গোলে হারাল সুইজারল্যান্ড জুয়া প্রতিরোধসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া অনুমোদন পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই নগরী সম্ভব নয় বিডার ভরসা দেশি বিনিয়োগে ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, তুমুল বিতর্ক চোখের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অপটোমেট্রি পেশার স্বীকৃতি প্রয়োজন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সদরঘাটে নৌ পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার মাদক প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠনের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

ভারত বাংলাদেশে নজরদারি বাড়াতে হলদিয়ায় নৌঘাঁটি তৈরি করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৯ পি.এম.
হলদিয়ায় ভারতীয় নৌঘাঁটি তৈরি হলে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে নজরদারি আরও জোরদার হবে-ছবি: সংগৃহীত

ভারত চীন-পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ওপর নজরদারি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই ঘাঁটিটি মূলত বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের উত্তরে সম্প্রতি চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতা বাড়ছে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্প্রতি যোগাযোগ বেড়েছে। বাংলাদেশে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের পাকিস্তান সফরও ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন ঘাঁটিটি কলকাতা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে হবে। হুগলি নদীর কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় ভারতের নৌবাহিনী খুব দ্রুত বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারবে। হলদিয়ার ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করে ঘাঁটিটি তৈরি করা হবে। এর ফলে অপারেশনাল সুবিধা বাড়বে এবং নতুন অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনও কমবে।

ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে বিভিন্ন দ্রুতগামী সামরিক নৌযান। এর মধ্যে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটস (FIC) এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটস (NWJ FAC) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব নৌযানের গতি ঘণ্টায় ৭৪ থেকে ৮৩ কিলোমিটার পর্যন্ত। এছাড়া, CRN-91 স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান এবং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সুইসাইডাল ড্রোন নাগাস্ত্র সিস্টেমের মতো অস্ত্রশস্ত্র থাকবে।

ভারতীয় নৌবাহিনী সূত্র জানায়, ঘাঁটিতে সার্বক্ষণিক ১০০ জন সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক থাকবেন। এই নৌঘাঁটির মূল লক্ষ্য হল চীনা যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি মনিটর করা, বাংলাদেশ ও চীনের সামরিক সহযোগিতা পর্যবেক্ষণ করা এবং পাকিস্তান-সম্পর্কিত নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্ক থাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হলদিয়ায় এই নৌঘাঁটি ভারতের জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে কাজ করবে। কারণ, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে স্থায়ী নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সুবিধা এটি দেবে। এছাড়া, এটি ভারতের আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুন ঘাঁটিটি নির্মাণের ফলে ভারতের নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগরে আরও সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাতে সক্ষম হবে। এটি শুধু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, বরং চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপরও নজর রাখার সুযোগ দেবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষত, বঙ্গোপসাগরের উত্তরে চীনা নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং সমুদ্রপথে কৌশলগত প্রভাব প্রতিহত করার জন্য এটি প্রয়োজন।

নিশ্চয়ই, হলদিয়ার নতুন নৌঘাঁটির মাধ্যমে ভারত নিজ দেশের সমুদ্র সীমা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে পারবে। এছাড়া, এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর দ্রুতগতির সামরিক নৌযান ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে আঞ্চলিক দিকনির্দেশনা বজায় রাখার সুযোগও দেবে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
শ্রীলঙ্কায় সার্কের সিভিওদের সভা শুরু
শ্রীলঙ্কায় সার্কের সিভিওদের সভা শুরু
এসএসএফের পিস্তল দিয়ে নিশানা পরীক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী
এসএসএফের পিস্তল দিয়ে নিশানা পরীক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী