• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও নেতৃত্ব বিশ্ব রাজনীতির অনন্য উদাহরণ: দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪০ পি.এম.
বক্তব্য রাখছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। ছবি: ভিওডি বাংলা

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ, সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্ব বিশ্ব রাজনীতির অনন্য উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, কোনো দল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, তবে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও লড়াই অনুসরণ করলেই একদিন সফলতা আসবেই বলে আমার বিশ্বাস।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নারে শোকার্ত লেখক সমাজ এর উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, কিছু মানুষ চলে যায়, কিন্তু তাদের আদর্শ থেকে যায়। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই একজন মানুষ, যাঁর আদর্শ, ব্যক্তিত্ব ও সংগ্রাম কখনো মুছে যাওয়ার নয়। ইতিহাসে তিনি চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন তাঁর আত্মত্যাগ ও গণতন্ত্রের প্রতি আপসহীন অবস্থানের কারণে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা তিন দফায় ক্ষমতায় থেকেও যা অর্জন করতে পারেননি, বেগম খালেদা জিয়া তা অর্জন করেছেন ক্ষমতার বাইরে থেকে ১৬ বছর রাজপথে আন্দোলন করে। জেল খেটে, অপবাদ সহ্য করে, মিথ্যা মামলায় সাজা ভোগ করেও তিনি কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমরা প্রায়ই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উদাহরণ দিতে গিয়ে ল্যাটিন আমেরিকা, এশিয়া কিংবা নেলসন ম্যান্ডেলার কথা বলি। কিন্তু যদি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকানো হয়, তাহলে বোঝা যাবে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একজন মানুষ কতটা দৃঢ়, আপসহীন ও ত্যাগী হতে পারেন।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, “আমি যখন তাঁর সঙ্গে রাজনীতি শুরু করি, তখন আমি ছাত্রদলের সভাপতি এবং তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন। তখন অনেক শিক্ষক, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যন্ত আমাকে বলেছিলেন তাঁর সঙ্গে থাকা পাগলামি। অন্য পথে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ই প্রমাণ করেছে, সেই সিদ্ধান্তই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। যারা আমাকে নিরুৎসাহিত করেছিল, তারা কেউ ইতিহাস গড়তে পারেনি।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হয়েও বেগম খালেদা জিয়া কখনো সেই পরিচয়ে রাজনীতি করেননি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, শহীদ জিয়া জীবিত থাকাকালে কোনো রাজনৈতিক সভায় তাঁকে নিয়ে যাননি। বেগম খালেদা জিয়া যা কিছু অর্জন করেছেন, তা একান্তই তাঁর নিজের সংগ্রাম, নেতৃত্বগুণ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ফল।

দুদু বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, এমনকি লেখক, বুদ্ধিজীবী ও খ্যাতিমান সাহিত্যিকরাও তাঁকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি দিনের পর দিন সংগ্রাম করে, লড়াই করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। সময়ই সব মিথ্যা অপবাদ মুছে দিয়েছে।

১৯৮৬ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বৈরাচার এরশাদের অধীনে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অটল। সে সময় শেখ হাসিনা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিলে সেটিকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলা হয়েছিল এবং বেগম খালেদা জিয়াকেই দোষারোপ করা হয়। কিন্তু ইতিহাস আজ প্রমাণ করেছে সেদিন শেখ হাসিনা ভুল করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াই প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর ধরে আন্দোলন করেছেন, জেলে গেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অসংখ্য মামলার মুখোমুখি হয়েছেন—তবুও স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে যাননি। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে বিজয়ী হয়েছিলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আজ তাঁর জানাজাই প্রমাণ করেছে তিনি মানুষের নেত্রী, তিনি দেশের নেত্রী। অন্যদিকে ক্ষমতার সঙ্গে থেকেও শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে প্রমাণ হয়েছে, ক্ষমতা মানুষের ভালোবাসা নিশ্চিত করে না; বরং জনগণের ঘৃণাই তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে।

শোক সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার সহ প্রমুখ।

ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে
জাতীয় নাগরিক পার্টি সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে
সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে : নাহিদ ইসলাম
সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে : নাহিদ ইসলাম
মানবাধিকার সার্বজনীন, ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে
মানবাধিকার সার্বজনীন, ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে