মুহাম্মদ ইউনূস:
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতিশ্রুতি

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এনএসডিএ গভর্নিং বডির সভায় প্রধান উপদেষ্টা এই নির্দেশনা দেন। এতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে এনএসডিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেমওয়ার্ক। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য সনদ প্রদানের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক। কিন্তু দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে আমাদের শ্রমিকদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারায়, তবে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হবে। এই ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।”
দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরিতে গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে, “চাকরিদাতারা যেন বলেন যে, বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী এসেছে, তারা নিশ্চয়ই ভালো কাজ করবে।”
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, এনএসডিএ-এর অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থার উদ্যোগ জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্যও স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার দরজা উন্মুক্ত থাকে।
সভায় বিগত সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হয় এবং একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্প খাতে শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণ সহজ হবে।
সভায় দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যসমূহও অনুমোদন করা হয়, যার মধ্যে আছে: উদীয়মান সেক্টরগুলোতে ‘স্কিলস গ্যাপ এনালাইসিস’ করা, সকল উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (BNQF) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সাথে সামঞ্জস্য করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল জনবলকে ‘পুর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’র মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে (IMT) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি (CDC) প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্ম সৃজনশীল এবং সম্ভাবনাময়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের জন্য সম্ভাবনার দরজা উন্মুক্ত করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এনএসডিএ-এর কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি দেশের দক্ষতা উন্নয়ন নীতি ও কর্মসূচি সমন্বয় করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত গভর্নিং বডির প্রথম সভার পর এবার দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হলো।
সভায় নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমিকদের জন্য আরও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। জালিয়াতি ও ভুয়া সনদ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা বাংলাদেশের শ্রমশক্তির উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
ভিওডি বাংলা/জা







