টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:
ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে পাকিস্তান, প্রত্যাহার করল বয়কট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের বহুল আলোচিত ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। রোববার শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচ নিয়ে শুরুতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা পাকিস্তান সরকার প্রত্যাহার করে বয়কটের সিদ্ধান্ত তুলেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে যে দলকে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মধ্যে কয়েক দিনের আলোচনা এবং সমঝোতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, “ক্রিকেটের চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং বিশ্বব্যাপী এই খেলাটির ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই দলকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকার দলকে ভারতের বিপক্ষে খেলতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশকে ‘সমর্থন’ জানাতেই এমন প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের অনুরোধ জানায়, কিন্তু আইসিসি তা গ্রহণ না করায় তারা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে বৈশ্বিক ক্রিকেটে আর্থিক ও কাঠামোগত বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারত। আইসিসির সম্প্রচার স্বত্ব ও ভবিষ্যৎ চুক্তি নিয়েও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হবার আশঙ্কা ছিল। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতো ছোট ও উদীয়মান ক্রিকেট দেশগুলো, যারা আইসিসির রাজস্ব বণ্টনের ওপর নির্ভরশীল।
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, পিসিবির সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট বয়কট করার কারণে কোনো শাস্তির মুখে পড়বে না। পাশাপাশি ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগও দেওয়া হবে।
এদিকে, বিসিবি পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানায়। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “পুরো ক্রিকেট ব্যবস্থার স্বার্থে এই ম্যাচটি হওয়া জরুরি। এই সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পাকিস্তানের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।” শ্রীলঙ্কাও পাকিস্তানকে ম্যাচে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হলে শ্রীলঙ্কা আয়োজক হিসেবে টিকিট বিক্রি ও দর্শক আগমনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে আইসিসি ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা হবে। সে অনুযায়ী পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য নির্ধারিত।
পূর্বে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। এর আগে ভারত পাকিস্তানে গিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বকাপে দুটো দলই তাদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে। পাকিস্তান মঙ্গলবার কলম্বোয় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে, অন্যদিকে ভারত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নামিবারের মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি নাশপাতি রঙের উত্তেজনা, দর্শক আগ্রহ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাশাপাশি, আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো উভয় দলের জন্য নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ম্যাচটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নজির তৈরি করবে।
পাকিস্তান সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এবং আইসিসি-বোর্ডগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করেছে, ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের এই ম্যাচ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে হবে। এটি বিশ্ব ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক উত্তেজনাপূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠবে।
ভিওডি বাংলা/জা







