ভোট দিতে আজও ঘরমুখো মানুষ, নেই ভোগান্তি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামে ফিরছেন অসংখ্য ভোটার। পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে নানা বয়সী মানুষ ছুটছেন গ্রামের পথে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বাসে উঠছেন এবং নির্বিঘ্নে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।
তবে মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার যাত্রীচাপ ছিল তুলনামূলক কম। আগের দিন সায়দাবাদ টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় এবং বাসের স্বল্পতার কারণে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও তুলেছিলেন। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে এমন কোনো ভোগান্তি বা বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল ছাড়াও জনপথ মোড়, উত্তর যাত্রাবাড়ী, দোলাইপাড়, শনির আখড়া ও রায়েরবাগ এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। যাত্রীরা পর্যাপ্ত বাস পাচ্ছেন এবং কোনো ধরনের হুড়োহুড়ি ছাড়াই টিকিট সংগ্রহ করে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন।
এসব স্থান থেকে কুমিল্লা, বরিশাল, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, লাকসাম, খুলনা, সিলেট ও লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে বাস ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। কাউন্টারকর্মী ও বাসের স্টাফরা যাত্রীদের ডাকাডাকি করে বাসে উঠতে সহায়তা করছেন।
ঠাকুরগাঁওগামী এক যাত্রী বলেন, ‘আমি ঠাকুরগাঁও যাচ্ছি। ভোট দেওয়ার জন্যই বাড়ি যাচ্ছি। অনেকদিন বাড়ি যাওয়া হচ্ছিলো না। তাই এখন ভোটের উপলক্ষে বাড়িতে যাচ্ছি।’
আরেক যাত্রী প্রশাসনের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা যেন ভালোভাবে বাড়িতে পৌঁছাতে পারি। প্রশাসনকে দায়িত্ব নিয়ে সেভাবে কাজ করতে হবে।’
পর্যাপ্ত গাড়ি থাকায় অনেক যাত্রীকে ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করতেও দেখা গেছে। বরিশালের পিরোজপুরগামী রবিউল ইসলাম বলেন, সাধারণ সময়ের ভাড়া ৫০০ টাকা। একটু দামাদামি করছি যদি কিছুটা কমিয়ে নেওয়া যায়।
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা চারদিন ছুটি পাচ্ছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী থেকে গ্রামমুখী মানুষের যাত্রা অব্যাহত থাকলেও বুধবারের চিত্র ছিল স্বস্তিদায়ক। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে। সব মিলিয়ে ভোটকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় এদিন ছিল শৃঙ্খলা ও স্বাচ্ছন্দ্যের ছাপ।
ভিওডি বাংলা/জা







