• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নেত্রকোণা-২ আসনে মন্ত্রী দাবি করলেন সর্বস্তরের জনগণ

নেত্রকোণা প্রতিনিধি    ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১৮ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণা জেলার ১০ টি উপজেলা নিয়ে ৫ টি নির্বাচনী আসন গঠিত। এরমধ্যে নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনটিতে কখনোই মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী দেয়নি বিএনপি সরকার। অবশ্য এই আসনটিতে আওয়ামীলীগ থেকে ২ বার প্রতিমন্ত্রী এক বার উপমন্ত্রী দিয়েছিল। এ কারণে বিএনপির সরকারের সময় সব চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নেত্রকোণা-২ আসনে কাঙ্খিত উন্নয়ন, শিল্প কারখানা বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। 

এবার সামাজিক মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা সদরের এই আসনটিতে উন্নয়নের স্বার্থে মন্ত্রী দেওয়ার দাবী তোলেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবন্দসহ স্থানীয় লোকজন। এবার এই আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক প্রতিকূলতা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নেত্রকোণা বিএনপির রাজনীতিকে সুসংগঠিত করেছেন। দলের দুর্দিনেও তিনি মাঠ ছেড়ে যাননি, বরং নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতে, তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন অভিভাবক হিসেবে সবার পাশে দাঁড়ান। জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান নির্বাচিত সভাপতি  ও বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান এমপি নির্বাচিত হন ১৯৭৯ সালে। পরে আসনটিতে ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে আবু আব্বাছ এমপি নির্বাচিত হন। এছাড়া আসনটি ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। ২০০১ আব্দুল মোমেন, ১৯৯৬ ফজলুর রহমান আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে ফুটবলার আরিফ খান জয় আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৮ সালে আশরাফ আলী খান খসরু আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পুনরায় ২০২৪ সালে আশরাফ আলী খান খসরু আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তবে, এই আসনে কখনোই বিএনপি থেকে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-২ আসনে লক্ষাধিক ভোট বেশি পেয়ে আনোয়ারুল হক বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে, বিএনপি থেকে ধানের শীষের প্রতিক নিয়ে অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ট ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানের প্রাপ্ত ভোট ৬৭ হাজার ৩৬৭টি। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ১ লাখ ৪ হাজার ৩২ ভোট বেশি পান। 

সদর বারহাট্টা আসনে নারী, পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের মোট ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮ জন ভোটার রয়েছেন। তার মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ১২ জন। মোট প্রদেয় ভোট ২ লাখ ৭০ হাজার ২৮৫ ভোটার। প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার ৫৩.৭৯%। 

নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু  বলেন, নেত্রকোণা জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রান কেন্দ্র  হল নেত্রকোণা ২সদর বারহাট্রা এই আসনে মন্ত্রী পরিষদে সদস্য না থাকলে জেলার সুষম উন্নয়ন হয়না। অতীতেও আমরা কোনও মন্ত্রী পায়নি। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও প্রথম শ্রেণির জেলা  শহরকে মনে হয় কোনো উপজেলা শহরের চেয়েও অনুন্নত। তাই এবার আমরা যেকোনো দফতরে মন্ত্রী চাই। আমাদের অনেক ঠকানো হয়েছে। এবার আমরা যোগ্য এমপিকে সংসদে পাঠিয়েছি। তাই এবার আমরা মন্ত্রী চাই। 

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু বলেন, এই আসনে আওয়ামী লীগ দুবার মন্ত্রী দিয়েছে। কিন্তু আমরা কখনো মন্ত্রী পাইনি। অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ারুল হক দূর্দিনের পরীক্ষিত সৈনিক যোগ্য নেতা বিগত ১৭ বছর পুরো জেলায় নিজের পরিবারের মত দলকে উজ্জিবিত করে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি পালন করে আগলে রেখেছেন, তাকে মন্ত্রী পরিষদে জায়গা দেওয়া হলে এলাকার পাশাপাশি রাষ্ট্রের উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

ভিওডি বাংলা/ একে এম এরশাদুল হক জনি/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
টাঙ্গাইল-১ আসনের এমপি স্বপনকে মন্ত্রী করার দাবি জোরালো
টাঙ্গাইল-১ আসনের এমপি স্বপনকে মন্ত্রী করার দাবি জোরালো
প্রবাসীর অর্থায়নে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদের উদ্বোধন
ফুলবাড়ী প্রবাসীর অর্থায়নে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদের উদ্বোধন
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুশফিকীন নূর কে হাইকোর্টে তলব
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুশফিকীন নূর কে হাইকোর্টে তলব