রমজানকে সামনে রেখে রাজশাহীতে নিত্যপণ্যের বাজার চড়া

রমজান আসতে বাকী আর দুইদিন। এদিকে পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে রাজশাহীতে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ক্রেতারা বাজারে গিয়ে দাম শুনে হতভম্ব।
রাজশাহী মহানগরীসহ এর উপকন্ঠের বাজার গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মুরগি, ছোলা, ডাল, চিনি, ভোজ্য তেল, খেজুর, লেবু, কলা, বেগুন, পেঁয়াজসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। মসুর ডালের প্রতিকেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা, কালাই প্রতিকেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫২ টাকা, ৮০ টাকার ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়, ভোজ্যতেল সোয়াবিন প্রতি লিটারে তিন টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯৭ টাকা, পাম ওয়েল প্রতি লিটারে একটাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৬৬ টাকা, পেঁয়াজ প্রতিকেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, রসুন (আমদানিকৃত) প্রতিকেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা, দেশি রসুন প্রতিকেজিতে ৫০-৪৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা, আদা প্রতি কেজিতে ১০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, বয়লার মুরগি প্রতিকেজিতে ১৫ টাকা দাম বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা, সোনালী মুরগি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়, দেশি মুরগি প্রতিকেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতিকেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। প্রতিহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কলা প্রতিহালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শশা প্রতি কেজি ৮০, বেগুন ৭০ থেকে ৮০, চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।
হটাৎ করেই রমজানকে ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতারা হতভম্ব। তারা দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কিছু পণ্য রয়েছে যেগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল নিয়ে চলছে অস্থিরতা। মিল থেকে প্রয়োজনীয় তেল দেয়া হচ্ছে না ব্যবসায়িদের। এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা।
আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের একটি মনিটরিং টিম কাজ করবে বলে জানান রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু। তিনি বলেন, আজ মঙ্গলবার মনিটরিং কমিটির লোকজনকে নিয়ে এবিষয়ে আলোচনা করবো। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যদি পণ্য মজুত করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সহায়তা করা হবে।জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, রমজান উপলক্ষে বাজারে মনিটরিং জোরদার করা হবে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। দর নিয়স্ত্রণের বিষয়টি তদারকি করবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
এদিকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিয়মিত পণ্যের পাশাপাশি ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। রাজশাহী মহানগরীতে খোলা ট্রাকে সর্বসাধারণের জন্য টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতি ট্রাকে ৪০০ জনের ১৫ টি ট্রাকে ৬০০০ পরিবারকে প্রতিদিন নিম্নোক্ত পণ্য দেয়া হবে :- ২ কেজি মসুর ডাল ১৪০ টাকা, ২ লিটার ভোজ্যতেল ২৩০ টাকা, ১ কেজি চিনি ৮০ টাকা, ১ কেজি ছোলা ৬০ টাকা, ১/২ (হাফ) কেজি খেজুর ৮০ টাকা যার প্যাকেজ মূল্য ৫৯০ টাকা দরে বিক্রি হবে। ডিলারগণ সকাল ১১টার মধ্যে পণ্য বিক্রয়ের স্থানে পৌঁছে ট্যাগ অফিসার/ওয়ার্ড সচিবদের উপস্থিতিতে পন্য বিক্রি করবেন। এ বিষয়ে টিসিবি রাজশাহীর ডিডি আতিকুর রহমান সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।







