ঋতু পরিবর্তনে গলা ব্যথা?

এই সময়ে অনেকেই গলা ব্যথায় ভুগছেন। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে যায়। হঠাৎ তাপমাত্রার ওঠানামা, ধুলোবালি বা আর্দ্রতার পরিবর্তনের কারণে গলা সংক্রমণ বা প্রদাহজনিত সমস্যা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে আপনি স্বস্তি পেতে পারেন। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়; যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মধু: প্রাকৃতিক প্রদাহ-বিরোধী
মধু প্রাকৃতিকভাবে প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত। অনেক দেশে এটি গলার অসুবিধার জন্য প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যদিও এটি আইবুপ্রোফেনের মতো শক্তিশালী নয়, তবু অনেকের জন্য কার্যকর। মধু এক বছরের বেশি বয়সী মানুষের জন্য সাধারণত নিরাপদ। গলার ব্যথার প্রধান কারণ হচ্ছে প্রদাহ। সংক্রমণ প্রতিরোধে শরীরের প্রতিক্রিয়ার ফলে গলার পেছনে ব্যথা অনুভূত হয়। দিনে ১–২ চামচ মধু গরম চায়ার সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া বা সরাসরি খাওয়া গলা আরাম দিতে সাহায্য করে।
চা: উষ্ণতা ও আরাম
ক্যামোমাইল চা সহ বিভিন্ন প্রকার চায়ার প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গরম চায়ার উষ্ণতা গলার প্রদাহ কমাতে সহায়ক। চাইলে চায়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে আরাম আরও বৃদ্ধি পায়। আপনার পছন্দ অনুযায়ী সবুজ চা, কালো চা বা হারবাল চা বেছে নিতে পারেন। গরম পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি গলা শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা করে।
পুদিনা: সতেজতা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ
পুদিনার প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি গলার প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং সতেজ স্বাদ যোগ করে। তবে ব্যবহার সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে, কারণ বেশি পুদিনা রক্তচাপ বাড়াতে পারে। পুদিনা চা বানিয়ে কম পরিমাণে পান করা বা খাবারে সামান্য যোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
রসুন ও আদা: প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক
গলার ব্যথা উপশমে কিছু মানুষ রসুন চিবিয়ে খায়। রসুনের অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্য সংক্রমণ কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়াও আদা চিবিয়ে খাওয়াও সাময়িক স্বস্তি দেয়। এগুলো প্রাকৃতিক উপায় হলেও নিয়মিত বা অতিরিক্ত ব্যবহার এড়ানো উচিত।
কিছু ধরণের চায়েরও প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ক্যামোমাইল চা। এছাড়াও অনেকের গলা ব্যথা ভালো করার জন্য গরম চায়ের উষ্ণতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলেও উপকার পাবেন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো চা বেছে নিতে পারেন।
গলা ব্যথা প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া উপায়ে কমানো সম্ভব হলেও দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং ঋতু পরিবর্তনের সময় সতর্ক থাকায় অনেকাংশে এই অসুবিধা এড়ানো যায়।
ভিওডি বাংলা/জা







