• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বিদেশি ঋণের চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫১ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

নতুন সরকারকে নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি সুসংহত মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে নাগরিক প্লাটফর্ম। পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে বিদেশি ঋণের চাপ আগামী সময়ে আরও বাড়বে, যা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া ট্যাক্স জিডিপি রেশিও ১৫ শতাংশে না গেলে এ সরকারের অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে পড়বে।  

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার-এ এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু; অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠান আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আসন্ন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবসম্মত জাতীয় বাজেট কাঠামো প্রস্তুত করতে হবে। এতে রাজস্ব আহরণ, ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর শৃঙ্খলা আরোপের পাশাপাশি অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান বাজেট বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন না করলে আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে।

ব্রিফিংয়ে অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়, যেখানে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য সূচক থাকবে। বিশেষ করে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর কৌশল দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন বক্তারা। তারা বলেন, বাণিজ্য সুবিধা হ্রাস, শুল্ক কাঠামো পরিবর্তন এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’-এর মতে, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে আবেগ নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। এজন্য একটি সুসংহত মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তার সঙ্গে বাজেট ও সংস্কার কর্মসূচির সমন্বয় ঘটাতে হবে। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও তা অর্জনের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত না করলে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক তৈরি হবে।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, “অর্থনীতির ভঙ্গুর স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের স্থবিরতা এবং সংকুচিত রাজস্ব পরিসর-এই তিন বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকারকে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোতে হবে।”

বিশ্লেষণে বলা হয়, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হলেও বাংলাদেশে এর প্রতিফলন এখনও সীমিত। বিশেষ করে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় চাপে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা উন্নতি এলেও আমদানি চাহিদা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়লে এই স্থিতিশীলতা টেকসই নাও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

দ্বিতীয়ত, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ২০২৫ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে সীমিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে প্রায় ২১ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে।

তৃতীয়ত, দেশের রাজস্ব কাঠামো গভীর চাপে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় দিয়ে সরকারের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধে নতুন ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সিপিডি ১০টি নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে-মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি হার সামান্য কমানো; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়তা বৃদ্ধি; টাকার বিনিময় হার ধীরে ধীরে সমন্বয় করা;

রপ্তানি ও প্রবাস আয়ে নগদ প্রণোদনা যৌক্তিকীকরণ; সরকারি ব্যয়ে মিতব্যয়িতা এবং লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি; পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার ও খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিল, তার চেয়েও আরও নাজুক অবস্থায় রেখে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরসহ যে সব বৈদেশিক চুক্তি করেছে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। তিনি বলেন, নতুন সরকারের টাকা ছাপানোর চিন্তা স্বপ্নেও করা ঠিক হবে না। ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা চলতি অর্থবছরে না করা ভালো। বর্তমান সরকারকে আইনের শাসন প্রমাণ করতে হবে এবং সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।

সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশীয়, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্যের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়ানো জরুরি।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে কমিটি গঠন করা হয়েছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে কমিটি গঠন করা হয়েছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
ঈদের আগে শুরু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলট প্রকল্প
ঈদের আগে শুরু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলট প্রকল্প
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি রোধে সচেতন থাকুন: নাছিরের আহ্বান
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি রোধে সচেতন থাকুন: নাছিরের আহ্বান