• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
টপ নিউজ
১৫ দিনেই লক্ষ্যের পথে সরকার: মির্জা ফখরুল খুলনায় যুবদল নেতা খান মুরাদকে কুপিয়ে হত্যা ভালো কাজে সরকারকে সমর্থন, অন্যায় হলে ছাড় নয়: ডা. শফিকুর আবারও সিটি-রিয়াল দ্বৈরথ, চেলসি লড়বে পিএসজির বিপক্ষে বর্জ্য সংগ্রহে ১০০ টাকার বেশি নিলে ঠিকাদারের অনুমোদন বাতিল: আবদুস সালাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমান শিশুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অনুমতি ছাড়া অন্য পেশায় যুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ইউনূসের কিচেন কেবিনেটে কি হতো? যা বললেন সাখাওয়াত ২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহতের দাবি পাকিস্তানের, আহত ৩ শতাধিক পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ গঠন করছে আফগানিস্তান

রমজানে মাছের দাম বেশি, ব্রয়লার কম ও গরুর মাংস স্থিতিশীল

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৩০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাজারে পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে মাছের দাম ব্রয়লার মুরগির তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে, আর গরুর মাংসের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকারি পর্যবেক্ষণ ও সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ ক্রেতাদের কাছে এখনও এক ব্যয়বহুল বিকল্প।

মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও রায়েরবাজার এলাকায় শুক্রবার সকালে বাজারে ঘুরে দেখা যায়, দুই শত টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি কেজি পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২৮ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি টেংরা ৪৫০ টাকা, বাইন ৬০০, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০, পাবদা ৪০০, কই ৩৫০ থেকে ৪০০, শিং ৪০০, পোয়া ২৬০, সইল ৭০০ এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে চিংড়ি এখন সবচেয়ে ব্যয়বহুল, আকার ও জাত অনুযায়ী কেজিতে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

বাজারে আসা ক্রেতা কাঞ্চন মিয়া বলেন, "এক কেজি পাঙ্গাস এখন ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৩৫ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আগে এই মাছগুলো তুলনামূলকভাবে সস্তা ছিল। এখন রুই, কাতলা বা টেংরার দাম এমন যে সাধারণ মানুষ কিনতে পারবে না।"

ব্রয়লার মুরগির বাজারে অবস্থা একটু ভিন্ন। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও রায়েরবাজারের বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম এখন ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা। যা রমজানের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা কম। সোনালি জাতের মুরগির দামও কমেছে; এখন ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যেখানে আগে ৩২০ টাকা দরে পাওয়া যেত।

রায়েরবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী জামাল হোসেন জানান, "ব্রয়লার মুরগির সংকট কমেছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, তাই দামও কমেছে।" ক্রেতা আনিসুল ইসলাম বলেন, "আজ ১৭৫ টাকায় ব্রয়লার মুরগি কিনেছি। প্রথম রোজার দিন কেজি ১৯০ টাকা দরে কিনতে হয়েছিল। এখন দাম কমায় সুবিধা হয়েছে।"

গরুর মাংসের বাজারে পরিবর্তন নেই। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কোনো ওঠানামা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাছের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। দাম বেশি হলেও ক্রেতারা মাছ কেনার জন্য আগ্রহী। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগির দাম কম হওয়ায় সেটির বাজারে তুলনামূলক কম ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ক্রেতা মাছের দাম শুনে আর দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে থাকেন না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রমজানের শুরুতে মাছের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেশি দেখা গেছে। তবে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকায় মধ্যম ও উচ্চ আয়ের ক্রেতারা তা ক্রয় করতে পারছেন।

এদিকে, ঢাকার বিভিন্ন মার্কেট থেকে জানা যায়, মাছের বাজারে ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে। পেশাদার ক্রেতারা মনে করছেন, নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য মাছ এখন ব্যয়বহুল, তাই তারা সাধারণত ব্রয়লার মুরগি বা সস্তা মুরগিই কিনছেন।

মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে ক্রেতা কাঞ্চন মিয়া জানান, "পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের এখন বাজেটের সমস্যা হচ্ছে। রুই, কাতলা বা টেংরা কিনতে গেলে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হবে।"

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রমজান মাসের মধ্যে মাছ, মুরগি ও গরুর মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকারের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় থাকায় দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির দাম কমল ১৫ টাকা
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির দাম কমল ১৫ টাকা
গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ
গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ
রমজানে ফলের দাম আকাশচুম্বী
রমজানে ফলের দাম আকাশচুম্বী