• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
টপ নিউজ
১৫ দিনেই লক্ষ্যের পথে সরকার: মির্জা ফখরুল খুলনায় যুবদল নেতা খান মুরাদকে কুপিয়ে হত্যা ভালো কাজে সরকারকে সমর্থন, অন্যায় হলে ছাড় নয়: ডা. শফিকুর আবারও সিটি-রিয়াল দ্বৈরথ, চেলসি লড়বে পিএসজির বিপক্ষে বর্জ্য সংগ্রহে ১০০ টাকার বেশি নিলে ঠিকাদারের অনুমোদন বাতিল: আবদুস সালাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমান শিশুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অনুমতি ছাড়া অন্য পেশায় যুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ইউনূসের কিচেন কেবিনেটে কি হতো? যা বললেন সাখাওয়াত ২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহতের দাবি পাকিস্তানের, আহত ৩ শতাধিক পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ গঠন করছে আফগানিস্তান

ইউনূসের কিচেন কেবিনেটে কি হতো? যা বললেন সাখাওয়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৪ পি.এম.
সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল। এই কেবিনেটে কি হতো? কারা এই কেবিনেটের সদস্য ছিলেন এসব নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেন ওই কিচেন কেবিনেটে নানা প্রসঙ্গ। সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হয়ে কেনই বা তাকে চলে যেতে হলো, তারও একটা বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। সাবেক এই উপদেষ্টা বলেছেন, পুলিশকে পুনর্গঠিত করাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে সফল হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, পরিবেশ এমনই ছিল যে, পুলিশকে মাঠে আনার মতো অবস্থা ছিল না। কিছু দাবি-দাওয়া ছিল পুলিশের। সেই দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বললাম। কিছু থানা লুট হয়ে গেছে। অনেকগুলো থানায় আগুন লাগানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক। পুলিশের অবস্থা এমন ছিল, তারা বের হতে চাচ্ছিল না। অনেক আলোচনার পর পুলিশকে আনা হলো। ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়াতে চায়নি। তাদেরকে রাস্তায় থাকার জন্য উৎসাহ দিলাম। পুলিশ বের হলো। কাজও শুরু করলো। প্রায় ৪ হাজার রাইফেল লুট হয়ে গেছে। আমি থাকতে থাকতে কিছু রিকোভার হলো। যতটুকু জেনেছি, হাজার খানেকের বেশি রাইফেল-পিস্তল লুটেড অবস্থায় আছে। যেটা আমি মনে করি বর্তমান সরকারের জন্য মারাত্মক হতে পারে। এরমধ্যেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

কেন সরানো হলো এই প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত বলেন, আমি এমন কিছু কথা বলেছিলাম যা ওই সময়ের জন্য মনে হয়েছিল সঠিক নয়। কিন্তু এখন তো দেখছি, তার চাইতে বেশি হচ্ছে। আমি কথাটা বলেছিলাম, তা খণ্ডিতভাবে এসেছিল গণমাধ্যমে। আমি চলে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান আমাকে আসতে দেননি। মাত্র ৭-৮ দিনের মধ্যে চলে গেলে খারাপ বার্তা যাবে—এমনটাই তিনি বলেছিলেন।

৭.৬২ বুলেট প্রসঙ্গ ও সেটির সমাধান হয়েছে কিনা, উত্তরে এই সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ওটার সমাধান হয়নি। যদি পুরোটা দেখেন তাহলে দেখবেন—আমি গিয়েছিলাম আনসারদের দেখতে। তাদের গুলি মেরেছে অনেকে। আমি যে ভিডিওগুলো দেখলাম, লুঙ্গি পরা, গেঞ্জি পরা, হেলমেট লাগানো। হাতে পুলিশের রাইফেল—দ্যাট ইজ পুলিশের কাছে ৭.৬২ চাইনিজ রাইফেল টাইপ ৩৯ আছে। তার মানে বুলেটটা হচ্ছে ৩৯। এটা খুব মারাত্মক অস্ত্র। যেটা সাধারণত সমরাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটাকে আমরা নিষিদ্ধ বলি। পুলিশকে এই রাইফেলগুলো দেওয়া হয়েছে। আমার ইচ্ছা ছিল, এটা ইনকোয়ারি করার। এই রাইফেল তো পুলিশের পাওয়ার কথা নয়। এই রাইফেলগুলো পুলিশকে কবে দেওয়া হলো, কী কারণে, কেন ইনকোয়ারি কি করতে চেয়েছিলেন? সাখাওয়াত বলেন, না। আমি তো ছিলাম না। ইনকোয়ারি করবো কোথা থেকে? এর পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি। আমার কাছে এমন ছবি আছে যা সন্দেহজনক। তারা কারা? এদের চেহারা, গঠন আমাদের মতো নয়। মনে হচ্ছিল, আমি তো ‘বহিরাগত’ শব্দটা ব্যবহার করেছি। আমাদের দেশে স্নাইপার আছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাছে। কিন্তু এতো অহরহ প্রশিক্ষিত! কয়েকজনকে দেখলাম হেলিকপ্টারে উঠানো হচ্ছে। তাদের চেহারা-গঠন আমাদের মতো নয়।

সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল। যে কেবিনেটের সদস্য তিনি ছিলেন না। সেখানে কী আলোচনা হতো, তাদের জানানো হতো না। সদস্যরা ছিলেন ইউনূসের নিকটজন। এসব আলোচনার মধ্যেও আমি থাকিনি। আমাকে রাখাও হয়নি। দেশটা ছিল এক অগ্নীগর্ভের মধ্যে। উপদেষ্টাদের কেউ আমাকে ডাকেওনি। আমার সঙ্গে কনসাল্ট করার প্রয়োজনও মনে করেনি। সেখানে কী হতো, আমি জানি না। হয়তো ওই মনোভাবের লোক আমি ছিলাম না। আমি তাদের সাথে একমত হতে পারতাম না, তারা ধরে নিয়েছে। যারা এই কাজ করেছে, তারা চিহ্নিত। আমি শুধু নাম শুনেছি। তারা আমার কলিগ ছিলেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে এই উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ভালো হয়েছে। পৃথিবীতে কোনো নির্বাচনই একশ পারসেন্ট খাঁটি হয় না। আমাদের দেশে তো হয়ই না।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ৭৭টা সিট পেয়েছে। এটাতো একটা বিশাল ব্যাপার বাংলাদেশে। ইউরোপ-আমেরিকাতেও সমস্যা হয়। আমাদের মতো দেশে যেখানে তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোটই দিতে পারেনি, ভোট দেয়ার প্রয়োজনই পড়েনি।

বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে সাখাওয়াত বলেন, চুক্তি বলতে অপ্রকাশিত কোনটাই নয়। যখন চুক্তি হয় তা করে বিডা এবং পিপিপিএ, অথরিটি এবং সংস্থার সঙ্গে। পোর্ট সরাসরি এবং ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট অব বাংলাদেশ এবং ট্রিপল পি অথরিটি যেহেতু ট্রিপল পিতে অনেকগুলো পেশাভাগ চুক্তি হয়ে থাকে, তাদের টেকনিক্যাল কমিটি কাজটা করে। এবং সেখানে চুক্তির একটা জায়গা আছে। নন-ডিসক্লোজার একটা ক্লজ থাকে। সেটা ডিসক্লোজ করা হয় না।

আমেরিকান কোম্পানির শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের ৪ শতাংশ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমার সঙ্গে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের। সেভরন বা ওই কোম্পানির বেতন-ভাতা অনেক হাই। তাহলে কি আমেরিকা ইনভেস্ট করবে না? এই সাবেক উপদেষ্টা বলেন, নট অনলি আমেরিকা। মানে টেকনোলজি তো ওদের কাছেই আছে। এই টেকনোলজি কিন্তু চায়নার কাছে নেই। অফশোর ডিলিং-এ। এটা ওপেন ইনফরমেশন। ফয়জুল কবির সাহেব ছিলেন এবং আমাকে টিসিসি করতেই হলো। ওরা বলছিল, “স্যার, আমরা কিন্তু আসছিলাম ওয়ার্কআউট করতে। জানি কি হবে। তারপরেও ওয়ার্কআউট করবো না, বিকজ ইউ আর দেয়ার।” আমি সেখান থেকে ওদের সাথে আলোচনা করলাম, টিসিসি রাজি হলো না। এটা একটা শক্তিশালী মতামত। আমি এই প্রসিডিংসের মধ্যে লিখব যে, আপনাদের স্ট্রং মতামতের বিরুদ্ধে গিয়েও এই দুই পার্টির সম্মতিতে এটা ওয়ান থেকে ১.৫% করলাম।

বাইরে থেকে আমরা যেটা শুনছিলাম বিভিন্ন সময়, যে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, আন্দোলন, আন্দোলনের পরে দেশের বাইরের বড় দেশগুলো বাংলাদেশের উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। প্রভাব ফেলছে। নির্বাচনেও এক ধরনের প্রভাব আছে। আপনাদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রভাব ফেলছে। এটি কি তার মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হয় যে, আসলেই আমেরিকা কিংবা বড় রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশে এই ইন্টারিম গভর্নমেন্টের সময়টাতে খুব বেশি প্রভাব ফেলেছে?

সাখাওয়াত বলেন, সর্বক্ষেত্রে ডেফিনেটলি না। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো প্রভাব লেগেছে। ট্রেড নেগোসিয়েশন যেহেতু আমার পার্ট না, বাট যেটা আমি উপলব্ধি করেছি—ট্রেড নেগোসিয়েশন একটা বড় ধরনের চাপ ছিল।

ফরেন পলিসির ক্ষেত্রেও চাপ ছিল না। যেই ওরিয়েন্টেশন আমাদের ছিল, ওই অরিয়েন্টেশন ওয়াজ নট এক্সেপটেবল টু জেনারেল পাবলিক। কেমন ছিল? তিনি বলেন, সবকিছু দিল্লি কেন্দ্রিক। এটা কি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের বলছেন না, তার আগের কথা? তার আগের কথা বলছি। দিল্লি কেন্দ্রিক এবং যেভাবে এই রক্তক্ষয়ী প্রোগ্রামটা হয়েছে, তা দিল্লি কেন্দ্রিক কিনা এটা তো ক্লিয়ার। আর কোনো দেশে নাই, সবাই গিয়ে ওখানে উঠছে। ওখান থেকেই তারা সমস্ত কিছু পরিচালনা করছে। টাকা-পয়সা ওখানেও নিয়ে গেছে, বাইরেও নিয়ে গেছে। তো এটা দিল্লি কেন্দ্রিক এতে কোনো সন্দেহ আছে?

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
একটি নাগরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে উঠেছিল- মাহফুজ আলম
একটি নাগরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে উঠেছিল- মাহফুজ আলম
‘আন্দোলনে সবার ভূমিকা রয়েছে, কাউকে ছোট করতে চাই না’
‘আন্দোলনে সবার ভূমিকা রয়েছে, কাউকে ছোট করতে চাই না’
বিয়ের মেহেদী হাতেই প্ল্যাকার্ড ধরেছি, খেয়েছি টিয়ারশেল: লামিয়া
বিয়ের মেহেদী হাতেই প্ল্যাকার্ড ধরেছি, খেয়েছি টিয়ারশেল: লামিয়া